বাতাসের খেলনা বিষয়ে চারটি প্রস্তাবনা
১
আগামীকাল নামের মেয়েটি
দাঁতের ফাঁকে চুলের কাঁটা নিয়ে
ধীরে সুস্থে বসে
নিজের ইচ্ছে মতো চুল বাঁধছে
তারপর শেষ গুছিটুকু বিনুনি বেঁধে খোঁপা করে
চুলের কাঁটা বসিয়ে যেখানে দরকার
তারপর মুখ ফিরিয়ে নিজের মনে বিড়বিড় করছে
ঠিক আছে, কী আসে যায়?
আমার গতকাল নামের দিদিমাটি মারা গেছে।
কী আসে যায়? যারা মৃত শান্তিতে কবরে থাকুক তারা।
২
সেডার কাঠের দরজায়
সোনার নকশায় কিছু লেখা
আর মেয়েরাও খাঁটি সোনার।
সোনার নকশা পড়ছিল তারা মন্ত্রের মতো—
আমরাই শ্রেষ্ঠ শহর
মহত্তম জাতি আমরাই
আমাদের মতো আর কিছু থাকতে পারে না।
এখন ভাঙা কবজার দরজার পাল্লাগুলো বেকেচুরে ঝুলছে
আর শোঁ শোঁ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘন বৃষ্টির ঝাপটা
যেখান থেকে চলে গেছে সোনার মেয়েরা।
দরজার সোনার নকশায় তখনো লেখা—
আমরাই শেষ্ঠ শহর
মহত্তম জাতি আমরাই
আমাদের মতো আর কিছু থাকতে পারে না।
৩
আগেও এমন হয়েছে
শক্তিমান মানুষেরা বড়ো বড়ো শহর বানাল
একত্রিত করল একটা জাতিকে
আর গায়িকা এবং মহিলাদের পয়সাকড়ি দিল যাতে তারা গায়—
আমরাই শ্রেষ্ঠ শহর
মহত্তম জাতি আমরাই
আমাদের মতো আর কিছু থাকতে পারে না।
যখন গাওয়া হলো
শক্তিমান মানুষেরা শুনল সেই গান
আর ভালমতো পয়সাকড়ি দিল গাইবার জন্য।
শ্রোতাদের মধ্যে ছিল ইঁদুর আর টিকটিকিরাও
সেই গান শুনতে এখন শুধু আছে
ইদুর, টিকটিকি আর কালো কাক যারা কা কা করছে
শুকনো কাঠগি আর কাদা দিয়ে বাসা বাঁধছে
শক্ত হয়ে যাওয়া শব্দগুলোর ওপর
যেখানে সেডার কাঠের দরজায়
সোনার নকশায় লেখা ছিল
আর সোনার মেয়েরা গেয়েছিল আদরের গান—
আমরাই শ্রেষ্ঠ শহর
মহত্তম জাতি আমরাই
আমাদের মতো আর কিছু থাকতে পারে না।
গান বলতে শুধু কাকেদের কা কা চিৎকার
ঘন বৃষ্টির ঝাপটা গুমরে উঠছে বাতাসে, ভাঙা দরজায়
যেখানে শ্রোতা শুধু ইঁদুর, টিকটিকি।
৪
চৌকাঠে ইঁদুরের পায়ের হিজিবিজি দাগ
সেই দাগের হিয়েরোগ্লিফ এখন বকবক করছে
ইঁদুরদের বংশ পরিচয় নিয়ে
আর তাদের বাপ ঠাকুরদার শুদ্ধ রক্ত আর মহান জীবন নিয়ে।
আর সরে যাচ্ছে বাতাস
চৌকাঠের জমাট ধুলো দ্রে যাচ্ছে নিঃশব্দে
এমনকি ইঁদুরদের পায়ের দাগও একেবারে কিছুই বলছে না
আমাদের শ্রেষ্ঠ শহর আমাদের মহত্তম জাতির বিষয়ে
যেখানে শক্তিমান মানুষেরা শুনতো মেয়েদের গান—
আমাদের মতো আ কিছু থাকতে পারে না।