ব্যস্ততা আর মনখারাপের মধ্যে ডুবে যাচ্ছিলাম ওষুধের খোঁজ করতে গিয়ে পেলাম একটি বই। “সম্ভবামি”, কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় । পড়তে পড়তে জলের নীচে থিতু হওয়া কাদার মত মনখারাপ রইল পড়ে। কবির হাত ধরে খানিক মানস ভ্রমণ হলো। এই লেখায় সত্যিই “একলক্ষ আণবিক বোমা”।কাকে ভয় পাব “মা ফলেষু কদাচন”। কবি বলছেন –
“ওরে পাগল ভগবান এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ছিনাথ বহুরূপী তাকে বাঘ ভেবে পরীক্ষার পড়া নষ্ট কোরো না”(পৃ:৫৪)
আবার তিনি বলছেন,
“তুমি যুদ্ধ করো না করো সে তোমার ব্যাপার আমি নির্দেশ দিতে দিতে বিধ্বস্ত… বরং তুমিই বলে দাও-না আমি কীভাবে থাকি ওই গ্ৰামে যার আলুগুলো সব কোল্ডস্টোরেজে অথচ মানুষগুলো তাওয়ায় ফুটছে; কী করি এই শহরে যেখানে বুড়ো আঙুল আর তর্জনীর ছোঁয়ায় শূন্যে উঠে যাচ্ছে একটার কয়েন ফিরে আসছে ম্যাডোনা হয়ে…”(পৃ:৭৪)
আধুনিক জীবনকে ব্যাখ্যা করতে তিনি কয়েকটি শব্দকে হাতিয়ার করেছেন কেবল। আর ঠিক তখনই-
“মুশকিল হল যখন রাধার বদলে রিসার্চররা ঘিরে ফেলল আমায়; ওরা মানতেই চাইল না, হৃদয়কে নগ্ন আর ভালোবাসাকে অন্ধ হতেই হবে নাচতে নাচতে পাগল হয়ে গেছে যে ময়ূর তাকে দিতেই হবে দৃষ্টি…”
এর পর আর কী বলার থাকে।
ধর্মতত্ত্ব রাজনীতি ধারণ করে তিনি যেন শ্রীকৃষ্ণের অবতার ধরেছেন। হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন।বিশ্বরূপদর্শন করিয়েছেন। যখন বলছেন-
“মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতা মৃত্যুতে ফুরিয়ে যায়
ভালোবাসা ফুরোয় না কেন?”
আরো ক’বার পড়তে চাই। চিকিৎসার প্রয়োজনে ওষুধ দীর্ঘ হওয়া প্রয়োজন।