কিন্তু ওই যে শীত ও ডাক; যেন পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়
দুটোই ভীষণ অসহ্য!
মাঝে মাঝে মনে হয় সারস, তার ঠোঁট, তার ডাক ও শীত-
এসবের থেকে সাপের শীতঘুম খুব একটা খারাপ নয়।
একা হতে চেয়ে
একা হতে চেয়ে একলা আমি নির্জনে বসে বসে দেখি
একটি গভীর কুয়ো; যার কোনো তল নেই
সেখানে ভেসে ওঠে কত মুখ, কতশত ঘটনা–
প্রথমে আসে ভালো না– লাগাগুলো, কর্মস্থলের
খণ্ড খণ্ড চিত্র; তার দৈনন্দিন যেন না ফুরানো দ্বন্দ্ব।
কিছু অবয়ব যাদের আমি ঘৃণা করি, কিছু মুখ
যারা আমাকে ঘৃণা করে বা হয়তো করে না; কেবলি আমার কল্পনা।
ব্যথার দুপ্রান্ত আঘাত লেগে মুড়ে যাচ্ছে,
গোল হয়ে ঘিরে ধরে আমাকে। চক্রাকারে ঘুরতে থাকে
তারপর ধীরে ধীরে আসে ভালোলাগা মুখগুলো, তারা সব
ক্রমশ নদী হয়, পাহাড় হয়, গাছপালা,পাখির ডাক হয়ে যায়।
আমার বাঁচার মধ্যেই এদের সকলের বাঁচা
আর আমার মৃত্যুতে এরাও সকলে মৃত! ভাবতে ভাবতে
শেষে ভাবি- এই যে একলা হতে চাওয়া
একা আমির মধ্যে বহুত্বের চলে আসা আবার চলে যাওয়া– এসবের কী অর্থ?
খোঁজ
বিলুপ্ত ভাষায় লেখা গ্রন্থের মতো হারিয়ে যাওয়া একটি বাড়ি খুঁজছি। ছেঁড়া ছেঁড়া পাতার মতো মূল্যবান কিছু উদ্ধার হয় মাঝে মাঝে। তার ভাষা বোঝার চেষ্টা করি। একটি কুয়োর বর্ণনা। একটি বাগানের বর্ণনা। ঘর ও কুয়োর মাঝে একটি কাঁটাতার।যেতে হলে যেতে হবে গুহার মতো একটি পাথরের ফাটল দিয়ে। পেরলেই বাগান! বাগানের মাঝখান দিয়ে একটি সরু রাস্তা। বাগানটি ছোট। সব্জিতে ভরা। পায়ে লুটিয়ে পড়ছে গোলমরিচের লতা। রান্নাঘরের পেছনে একটি পেঁপে গাছ কিছুটা ভূমির সমান্তরালে চলে উঠে গেছে আকাশের দিকে। মাতৃস্তনের মতো ফলগুলি নিম্নমুখি। তারপরে বাঁশের বাতা দিয়ে বানানো একটি গেট সেজে আছে শ্যামাঙ্গী শিমে। যেতে যেতে তাদের স্পর্শ তোমার গালমুখ ছুঁয়ে যাবে। একটু দূরে পথের মাঝেই একটি লাউমাচা। ডুগডুগি হতে চাওয়া বোষ্টম বোষ্টমি লাউ যুগলে সাধনারত। এইটুকু পথ যেতে হবে নিচু হয়ে ঝুঁকে। তারপরেই কুয়োটি…
প্রলুব্ধ
যে রাতপোশাক তুমি পড়ে আছো
আমি সেটি দেখছি না
আমি দেখছি তার আড়ালে থাকা অবয়বটিকে
যে অবয়ব নিয়ে তুমি আমায় প্রলুব্ধ করো
আমি সেই অবয়বও দেখছি না
আমি দেখছি অবয়বহীনতাকে
তুমি যত কাছে আসো রাতপোশাকের একশ শতাংশ
শুদ্ধ সুতিগন্ধ নিয়ে, তোমার ঘামের গন্ধ নিয়ে
আমি টের পাই- তুমি নও, কোনও অবয়বহীনতাই আমাকে প্রলুব্ধ করছে!