উ প ন্যা স পর্ব ৩
তীর্থঙ্কর নন্দী
ক্ষয় ও ক্ষরণের কথামালা
দেবাকে স্কুল থেকে চেনে! সেই দেবা! যে দেবার টিফিন বক্স থেকে টিফিন তুলে খেয়ে নিতে পারে! সেই দেবা!
রাতে স্টোভে গরম হাত রুটি আর মুরগীর মাংস খায় দু-জনে। মুরগীর মাংস অনি দেবা পাহাড়ি ঢালের বাজার থেকে আনে। অনি খেয়াল করে রাতে দেবা সেই চারটে হাত রুটি খায়। অথচ কলকাতায় হলে খায় দুটো। কাঁচের জানলা দিয়ে পাহাড়ি জোনাকির আলো বিন্দুর মতো জ্বলতে থাকে। খুব আস্তে হলেও কাঁচ ভেদ করে এক ধরনের চাপা বুনোপোকাদের গুনগুন শব্দ কানে আসে। বসন্তের এই পাতা ঝরা রাতে শাল মহুয়ার কিছু কিছু শুকনো পাতা রাতের অন্ধকারে ঘুরতে ঘুরতে মাটিতে ছড়িয়ে যায়। খেতে খেতে কাঁচ জালনা দিয়ে অন্ধকারে এই সব দৃশ্য শব্দ দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে রাত প্রায় এগারোটা বেজে ওঠে। আজ সারাদিনই ভালো ঘোরা হয়। তিনটি ছোটো পাহাড় ডিঙিয়ে পাঁচ-পাঁচটি সরু ঝর্না দেখে নেয়। দুটো পাহাড়ি নদী। জেলেদের নদীতে মাছ ধরা। জ্যান্ত ছোটো মাছেদের লাফানো ইত্যাদি। প্রথমবার এসেও দেবার ভালো লাগে। নিজেকে প্রকৃতি নদী ঝর্নার ভিতর ডুবিয়ে বেশ আনন্দে সময় কেটে যায়। ফলে এই আনন্দের সঙ্গে দেবার ক্ষরণ কম হয়। মাতৃত্বের স্বাদ না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকে অনেকটাই দূরে থাকতে পারে।
ম্যাকলাস্কিগঞ্জে এলেই দেবাকে অনি অত্যন্ত নিপুণ চোখে খেয়াল করে। কলকাতায় থাকাকালীন দেবার চেহারা কেমন ফ্যাকাশে মনে হয় অনির। অফিস থেকে ফিরলেই অনি প্রায়ই খেয়াল করে দু-চোখের নীচে কালচে সেড। বোঝাই যায় খায় কম। দুপুরে ঘুম হয় না। বারান্দায় বসে বসে শুধুই গঙ্গাদর্শন করে। শরীরে বিশ্রামের কোনো চিহ্নই ফুটে ওঠে না। সারাদিন শুধু দুশ্চিন্তা আর মানসিক কষ্ট। এই মানসিক ক্ষয় কি সাঙ্ঘাতিক! অনবরত এই ক্ষয় শিরা উপশিরা দিয়ে তরলের মতো চুঁইয়ে চুঁইয়ে প্রবাহিত হয়। আর মানুষ শেষের দিকে যেতে শুরু করে।
ফলে দেবাকে বাঁচাতে হলে এই ক্ষরণের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে হয় ম্যাকলাস্কিগঞ্জে তৃতীয়বার কিংবা চতুর্থবার আনতে হবে। অথবা অন্য কোনো জায়গায়।
কেয়াতলার এক তলায় থাকেন শিশু চিকিৎসক, ধীরেন ধর। চিকিৎসক হিসাবে দারুণ। শিশুদের যে কোনো সমস্যা হলে নিমেষে ধরে নিতেন। শুধু ধরা নয় কোনো শিশুর একটু শক্ত অসুখ হলেই বলে দিতেন শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কেননা শিশু হাসপাতাল সরকারি হাসপাতাল। আর সরকারি হাসপাতাল হল মানুষের প্রকৃত সেবাকেন্দ্র। যদিও আপনি আপনার কোনো বাচ্চা ধরা যাক সে ছেলে বা মেয়ে! আপনাকে প্রথমেই শিশু হাসপাতালে গিয়ে নিজের শিশুপুত্র অথবা শিশুকন্যার নাম লেখাতে হবে। লেখা হয়ে গেলে আবার রিসেপশনে বসে থাকতে হবে। আবার আপনার ছেলে বা মেয়ের নতুন করে নাম এন্ট্রি করাতে হবে। এন্ট্রি করিয়ে রিসেপশনে বসে থাকতে হবে। তারপর আপনার ফোনে আউটডোর থেকে একটি ফোন আসবে। নরম মিষ্টি মহিলা গলায় বলতে পারে আপনার শিশুর ও পি ডি নং অমুক বা তমুক।
ধীরেন ধর বিবাহিত। দুই ছেলের পিতা। এখন বয়স সত্তর। সরকারী হাসপাতাল থেকে রিটায়ার্ড হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। বর্তমানে টুকটাক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। ধীরেন ধরের সম্পত্তি খুব একটা কম না। শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য এই শহরের ঘাম যুক্ত পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে ক্যালিম্পং-এ একটি বাংলো বানান। প্রতি গ্রীষ্মের ঘাম-জল থেকে রেহাই পেতে কালিম্পং-এ অন্তত একমাস থাকেন। দক্ষিণ লাইনে ক্যানিং-এর কাছে বেশ কিছু জমি কেনা আছে। সেখানে মরসুমি সবজি ফল চাষ হয়। এইসব দেখাশোনার জন্য চারজন মানুষ নিযুক্ত থাকে। যদিও চোরাই পথে ওরাও কিন্তু কিছু সবজি ফল ইত্যাদি বিক্রি করে দেয়। তবুও বছর শেষে ডাক্তার ধীরেন ধর একদিন দামি গাড়ি নিয়ে দুই ছেলেকে পিছনের সিটে বসিয়ে ক্যানিং-এ যান।
বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও ধীরেন ধর বড়ো পুত্র লবকে ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। অথচ ভদ্রলোক কুশকে মানে ছোটো পুত্রকে ঠিকঠাকই গাইড করেন। ছোটো পুত্র কুশকে নিজের পছন্দ মতো বিয়েও দেন। লব বিয়ে করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী। লব সব বিষয়েই পরিবারের থেকে একটু আলাদা। ভিন্ন প্রবৃত্তির। আসলে লব ছোটোবেলাতেই বেশ স্বাবলম্বী। এই স্বাবলম্বী হওয়া কিন্তু কেউই ছোটো করে দেখে না। ডাক্তার ধরের পরিবার অথবা আত্মীয় স্বজনও। তবুও কোনো এক কারণে ধীরেন ধরের থেকে লব আলাদা হয়ে যায়। আর কুশ আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ধীরেন ধর আর লবের দূরত্বে কোনো কঠিন ঝামেলা কিন্তু নেই। ধীরেন ধর রাসভারী ডাক্তার। শিশু চিকিৎসক হলেও। অবশ্য রাশভারী বিষয়টি মোটেও নির্ভর করে না কে কী বিষয়ে কাজ করেন অথবা কে কী ধরনের পোস্ট হোল্ড করেন। কিছু কিছু কর্মক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতেই পারে।
ঠিক এই কারণেই ধীরেন ধরের বড়ো পুত্র একটু রাশভারী। আত্মসম্মানীও। পিতার রক্ত তো লবেরও শরীরে বয়ে চলে। অবশ্য কুশেরও। তবুও কুশ অন্যধাতের।
শরতকাল এসে গেল। সকলেরই পুজোর জামা কাপড় মোটামুটি তৈরি। ব্যতিক্রম লবের। লব তখন সবে কলেজে। নিজের বোধবুদ্ধি বেশ পরিণত। পুজোতে জামাকাপড় নিয়ে অনেক খুঁতখুঁতে। ব্র্যান্ডেড ছাড়া কেনেই না। কতকাল আগেই স্মার্ট ফোন ছেড়ে আই ফোন কেনে। অথচ কুশ আজও স্মার্ট ফোনেই অভ্যস্থ। একজন পিতার দুটি বা তিনিট সন্তান থাকতেই পারে। আবার নাও থাকতে পারে। কিন্তু যার দুটি বা তিনটি সন্তান থাকে তারা যে সকলেই পিতৃচরিত্র বা পিতৃস্বভাবের হবে এই বিষয়ে তো টেকনিক্যাল কোনো পুস্তক নেই।
নেই বলেই লব আলাদা। শৈশব থেকেই একটু আলাদা। অনেকেই বলে ছেলেরা বাবার মতো না হলেই ভালো। অনেক সময় কেয়াতলার লোকেরা আত্মীয় স্বজনেরা বলাবলি করে নেতার ছেলে কি নেতাই হবে! অথবা সাংবাদিকের ছেলেরা সাংবাদিক! অথবা লেখকের ছেলেরা লেখক! কানাঘুষো অনেক কিছুই হাওয়ায় ভাসে। ভাসতে ভাসতে নিকট থেকে দূরে যায়। দূর থেকে দূরান্তরে। এর ফলে মানুষ ভাবে ধীরেন ধর বড়ো পুত্র লবকে ভালোবাসে না অথবা লবও তার পিতৃদেবকে! কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আসলে দু-জনেরই আলাদা ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষ। চরম ব্যক্তিত্বরা কখনও একে অপরের সঙ্গে মেলে না। ছায়াও মাড়ায় না। অথচ এই দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষেরা একে অপরকে শ্রদ্ধা করে। প্রচণ্ড ভালোওবাসে।
এক বর্ষার রাত। গরমের পর বৃষ্টি। বেশ ভালোই লাগে সকলের। কেয়াতলার বাড়িতে ডাঃ ধর জানালার বাইরে শহরের বৃষ্টি উপভোগ করে। দেখা যায় কেয়াতলার আশেপাশের বাড়িগুলো থেকে বৃষ্টির জলধারা কেমন চিলের ছাদের দেওয়াল বেয়ে মাটিতে গড়িয়ে যায়। সেইবার কিন্তু কলকাতায় বৃষ্টি কম হয়নি। লেকটাউন ভাসে। এখনও ভাসে। ঠনঠনিয়া কালি বাড়ি ভাসে। এখনও ভাসে। পার্কসার্কাস ভাসে। এখনও ভাসে। ছিদাম মুদি লেন ভাসে। এখনও ভাসে। বোকা রাস্তা ভাসে। এখনও ভাসে। অবশ্য বোকা রাস্তা কিন্তু কর্পোরেশনে নথিভুক্ত নেই। মানুষে মানুষে চলতি কথায় এই নামকরণ হয়। এই নামের এক মাহাত্ম্যও আছে। অনেক রাস্তাবিশারদই এই রাস্তার খোঁজ করেন। কেন এই নামকরণ। এই রাস্তার মাহাত্ম্য কী! মুখে মুখে প্রচলন হলেই কি একটি রাস্তার নামকরণ হয়ে যায়। হয়েছে তো! এই রাস্তাটি পুরনো কলেজ স্ট্রীট মার্কের্টের পিছন দিকে যেখানে পুরনো জামা কাপড় প্ল্যাস্টিকের খেলনা পুতুল ইত্যাদি বিক্রি হয় সেইখান দিয়ে রাস্তাটি চলে যায় মহাজাতি সদনে। রাস্তাটি বেশ রোমাঞ্চকর। কিন্তু বুদ্ধিহীন। তাই পথলোকেরা বলে বোকা রাস্তা। প্রথম প্রথম মানুষেরা এই রাস্তার নাম শুনলেই হেসে উঠত। এখন আর হাসে না।
সেই বর্ষার রাতে লব নব বিবাহিতাকে নিয়ে এক ডালিয়ার এগারোতলার কাঁচের জানলা থেকে বর্ষার ধারা উপলব্ধি করে। শহরের বর্ষা কত সুন্দর কত চমৎকার সেই বিষয়েই দু-জনে গল্পে মেতে থাকে। লব কখনও কলকাতার নীচু রাস্তায় বর্ষায় চলাফেরা করে না। চিরকালই ও আর কুশ বাবার গাড়িতে ছাত্রাবস্থাতেই যাতায়াত করে। ফলে কলকাতার কোন রাস্তা নীচু বোঝার ক্ষমতাই নেই। কোথায় কোথায় জল জমে সেই মানচিত্র জানেই না। জানেই না কলকাতার রাস্তায় হাঁটু জল হলে কীভাবে যেতে হয়। প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গোটাতে হয়। হাতে জুতো জোড়া নিতে হয়। এই অভিজ্ঞতা তাদের নেই। অথচ এই অভিজ্ঞতাই শহর কলকাতাকে চেনায়। কংক্রিটের কলকাতাকে চেনায়। পুজোর কলকাতাকে চেনায়। মিছিলের কলকাতাকে চেনায়। চেনায় OYO-র কলকাতাকে। যেখানে পরিচয়পত্র দেখালেই ছেলে-মেয়ে রুমে প্রবেশ করে মস্তি প্রেম হাসি কান্না সবই শেয়ার করতে পারে। অন লাইনে বুকিং করে এইসব গেস্ট হাউসে নানান রকমের কাজকর্ম চলে। এইসব OYO সরকারি মদতে লাইসেন্স প্রাপ্ত গণিকালয়। এই গণিকালয়ে কোনো ছেলে বা মেয়ের ভয় থাকে না।
ব্যক্তিত্ব যে কতটা প্রখর নিষ্ঠুর হতে পারে তার উদাহরণ ধীরেন ধর এবং তার বড়ো পুত্র লব। দু-জনের ভিতর যেন ব্যক্তিত্বর রেশারেশি। কে বেশি ব্যক্তিত্ব দেখাবে এই নিয়েই দু-জনের ঝামেলা। ফলে নিজের পছন্দ মতো পাত্রীকে বিয়ে করেই সংসার থেকে আলাদা হয়ে একডালিয়ার ফ্ল্যাটে থাকা। এই বিয়ে নিয়ে লবকে কখনও বাবার মুখোমুখি হতে হয়নি। হয়ওনি। কেননা বিবাহ জিনিসটি স্বাধীনচেতা একজন পুরুষের পছন্দের বিষয়। এই পছন্দ ধীরেন ধরের হতে পারে! নাও হতে পারে! ফলে প্রচণ্ড ব্যক্তিত্বপূর্ণ লব নিজের বিবাহ নিয়ে পাচকান করেনি। এখনও করে না। একডালিয়ার দশতলার ফ্ল্যাটে লব আর সিলি ভালোই থাকে। সিলিও বুদ্ধিমতী। সিলিও নিজের বাড়িতে এই বিষয়ে তেমনকিছু জানায়নি। অনেকে মনে করতে পারে লিভ টু। কিন্তু আসলে তা নয়। লব আর সিলি কালিঘাটের মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের আদেশ অনুসারে বিবাহ করেছে। পুরোহিতের আদেশ অনুযায়ী দুই পরিবারের গোত্র নাম সবই বর্ণনা অনুযায়ী লিখিত হয়। লব আর সিলি এই বিবাহকে অনেক বেশি গুরুত্ব ও প্রাধান্যও দেয়। পরে দু-জনে এই বিবাহকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে সরকারি স্বীকৃতি দেয়। দেয় এই কারণেই যে কখনও লব আর সিলি যদি বিদেশে যায়!
আজ আকাশ বেশ পরিষ্কার। কলকাতার ঘর-বাড়ি থেকে আকাশকে অনেক নীচু আর আপন লাগে। এই নীলাভ আকাশে ধীরেন ধর শৈশবে কত কাক, চিল, অজানা রকমারি ঈগল, বাজকে উড়তে দেখেছেন। শৈশবে তো নীল আকাশের নীচে সব পাখিদের চেনাও যায় না। যদিও সব পাখির জোড়া ডানা থাকে। ঘাড় থাকে। লেজ থাকে। চোখ জোড়া থাকে। তথাপি ধীরেন ধর কোনো এক বিষণ্ণ বিকেলে বারান্দায় কোল্ড-কফি খেতে খেতে কেমন একা হয়ে যান। সেই বিকেলে ধীরেন ধরের চেম্বার বন্ধ। ফলে অত্যন্ত রিলাক্সড মুডে বারান্দায় বসে বিকেলের আকাশ দেখেন। দেখেন পাখিদের আসা-যাওয়া। আনা-গোনা। হঠাৎ চোখে পড়ে একটি বাজ যার ডানা বিশাল। চোখজোড়া বড়ো এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। বাজটি কেন যেন একটি ঈগলকে ভাসমান অবস্থায় আকাশে তাড়া করছে। কেন তাড়া করছে বাজটি! ঈগলের কী দোষ! দোষ তো নিশ্চই কিছু আছে। তা না হলে বাজ কেন তাড়া করবে! কোল্ড-কফি শেষ হয়ে গেলেও ধীরেন ধর যুক্তিটি মেলাতে পারেননি। বাজের ব্যক্তিত্ব কি ঈগলের থেকে বেশি! কোল্ড কফি শেষ হলেও ধীরেন ধর উত্তর মেলাতে পারেননি। যদিও চিকিৎসাক্ষেত্রে অনেক শিশুরই জটিল রোগ মেলাতে পেরেছেন। সফলও হয়েছেন।
বিয়ের পর লব হানিমুনে যায় সাসান গির জঙ্গলে। কেননা লব সিলিকে নিজের পছন্দ মতো বিয়ে করে দুর্গাপুজোর পরপরই। লব জানে দুর্গাপুজোর পর বিয়ে করলে শীতকালেই সাসান গির জঙ্গলে যাওয়া যাবে। সাসান গির যে গুজরাতের নামকরা জঙ্গল লব সেটি স্কুলেই জানতে পারে। লব বিয়ের রাতেই সিলিকে সাসান গির জঙ্গলের কথা বলে। সিলিও সাসানের কথা শুনে ঝকমকিয়ে ওঠে। আসলে সিলি জঙ্গল খুবই ভালোবাসে। সিলি মনে করে জঙ্গলেই মানুষ অনেক প্রাণখোলা থাকে। জঙ্গলেই নাকি মানুষরা প্রেমিক-প্রেমিকা হয়। কথা হল বিয়ের আগে প্রেমিক-প্রেমিকা কেউ থাকুক বা না-থাকুক বিয়ের পরও তো আদর্শ প্রেমিক-প্রেমিকা হতে পারে। প্রেম বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট বই প্রকাশিত হয়নি যেখানে প্রেমের সূত্রাবলি লেখা আছে। যেমন প্রেম কী ভাবে হয়! কখন হয়! প্রেমিকের বয়স কত হতে হবে! অথবা প্রেমিকার বয়স কত হওয়া বাঞ্ছনীয়! প্রেমের সময় শুরু কখন! সকাল না ভোর! রাত না দুপুর! কিংবা প্রেম নিবেদনের জন্য কোন মাস শ্রেষ্ঠ! বৈশাখ না ফাল্গুন! শীত না গ্রীষ্ম!
(চলবে)