ক বি তা
হাসি বসু
গল্পহীন গল্প
হাওয়ায় ভেসে থাকা সপ্তপর্ণীর অজস্র বীজ
পথ ভুলে পৌঁছে যায় ছায়াপথের আড়ালে—
বৃষ্টি হওয়ার আগে, কয়েক হাজার বছরের
জমা হওয়া শ্যাওলা, কচুরিপানার পচা গন্ধ
দল বেঁধে, পথ আটকে বসে থাকে বাঁশের সাঁকোয়–
মেঘ ডুব দেওয়া সরল বিলের এপার থেকে ওপারে
জোলো হাওয়ায় সারাদিন সারারাত ঘুরে বেড়ায়
খানিকটা জলে ভেজা প্রেম আর অপ্রেমের মিশেল
পাঁচ দুপুরের গন্ধ মাখা সেইসব পুরনো উঠোনে
তখনও বেঁচে থাকে কিছু রং মোছা খিদের ভিড়
যে কোনো একদিন
সূর্য ছুটি নিলে গায়ে জ্বর আসে গাছেদের, পোকা-মাকড়দের,
রাতের মনে সন্দেহ জাগে, দিনের ছায়ার কাছে
রাতের ছায়ারা আসন্তোষ প্রকাশ করে
ঘুন পোকারা কুরে খায় দেহ, মন, পাহাড়, সমতল যা কিছু—
টিনের বাক্সে জমা থাকে প্রত্নতাত্ত্বিক হাজারখানেক প্রশ্ন
লাইনে দাঁড়ানো জীবনের কোনো রকম ব্যত্যয় নেই আজকাল
একঘেয়ে ঘ্যান-ঘ্যানে কচুরিপানায় ঢাকা পুকুরের মতো
ছাদের দড়িতে শুকোতে দেওয়া জামাকাপড় হাওয়ায় ওড়ে
বৃষ্টিতে ভিজে আবার শুকোয়, ছিঁড়ে যায়, খসে পড়ে,
ডোপামিনের মিথ্যে গল্প শোনাতে চুপিচুপি এগিয়ে আসে—
পূর্ণ গ্রাস সূর্য গ্রহণের মিথ্যে মিথ্যে হীরের আংটির দিন
সূর্য ছুটি নিলে হাওয়ায় জ্বর ভাসে। খুব জ্বর।
সেই জ্বর সারে না আর…