ক বি তা
অজন্তা রায় আচার্য
পতন
সেখানে সময়ের কোনো ঘড়ি নেই,
কেবল দেওয়াল জুড়ে শ্যাওলাধরা বিস্বাদ স্মৃতি
আমি যখন সেই অতলস্পর্শী ধাপে দাঁড়ালাম,
দেখলাম— আমার ছায়াটি আমার আগেই
গহ্বরের গভীরে হারিয়ে গেছে
চ্যুত প্রতিমা ধুলোয় লুটিয়ে
একটি নিথর শব্দ—
যেন জমাট বাঁধা রক্তে কেউ পাথর ছুঁড়েছে
হঠাৎ এক লহমায় মনে হল,
এই যে হাড়ের মতো সাদা অন্ধকার,
এ তো আমারই দীর্ঘশ্বাসে তৈরি এক স্থাপত্য
যেখানে শব্দেরা আর কথা বলে না
কেবল হাহাকারের মতো কিছু ধাতব শব্দ ভেসে আসে,
ফিরে তাকাতেই দেখি—
পিছনের সিঁড়িগুলো একে একে ভস্ম হয়ে যাচ্ছে,
ফেরার কোনও পথ নেই, কেবল সামনের দিকে
গভীর থেকে গভীরতর এক পতন।
স্বপ্নের অস্তিত্ব
পাখি উড়ে গেলে আকাশ খালি হয় না, বরং জমাট বাঁধে এক অন্তহীন শূন্যতার ভার। সেই ভার সইবার ক্ষমতা আমাদের নেই বলেই আমরা শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে মিথ্যে পালক তৈরি করি। অথচ সত্যিটা হল— গভীর রাতে যখন সব আওয়াজ মরে যায়, তখন মেঝের কোণে জমে থাকা ধুলিকণাগুলো একে অপরকে বলে, ‘স্বপ্ন বলে কিছু নেই, আছে শুধু খসে পড়া সময়ের হাহাকার।’