Skip to main content

Hello Testing

শ্র দ্ধা  জ্ঞা প ন

গৌতম মণ্ডল

goutam

লিটল ম্যাগাজিনের পুরোধাপুরুষের ৭৭ তম জন্মদিন: শ্রদ্ধার্ঘ্য

মূলত আড়ালে থাকা শক্তিশালী কবিদের সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে পাঠকের সংযোগ স্থাপন করার উদ্দেশে বীরভূমের একটি প্রত্যন্ত গ্ৰাম থেকে আদম পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে। ত্রৈমাসিক কবিতা পত্রিকা হিসেবে ঘোষিত হলেও কিছুদিনের মধ্যেই, অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, পত্রিকাটি অনিয়মিত হয়ে পড়ে। মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হলেও প্রায় প্রায় কোনো ছাপ না রেখে একতিরিশ বছর অতিক্রম হয়ে গেল। 

কিন্তু লেখালেখি ও পত্রিকা সম্পাদনার ভূত মাথায় চেপে বসার কিছুদিনের মধ্যেই টের পাই, বাংলা কবিতার জগতে পত্রিকা করা যথেষ্ট নয়। কেননা একটা সময়ের পর মনে হয় এমন অনেক মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ কবি রয়েছেন যাঁদের সেই অর্থে কোনো কাব্যগ্রন্থ নেই। বা গ্রন্থ থাকলেও সেভাবে সেগুলো কোথাও পাওয়া যায় না। এই সমস্যার কিছুটা সমাধান করার লক্ষ্যে নিজের লেখালেখি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জেনেও অগ্ৰপশ্চাৎ কোনোকিছু বিবেচনা না করে আদম নামেই একটি প্রকাশনা খুলে ফেলি। উদ্দেশ্য একটাই, আড়ালে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কবি ও লেখকদের বই প্রকাশ করা। কেননা বই প্রকাশিত না হলে পাঠকের প্রত্যাখানেরও সুযোগ থাকে না । পাঠক যাতে গ্ৰহণ বা প্রত্যাখ্যান করার অন্তত একটা সুযোগ পান অন্তত তার ব্যবস্থা হওয়া একটি জরুরি ও নৈতিক কাজ বলে মনে হয়। ঢাল নেই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার– কিন্তু সে কালবিলম্ব না করে সেই দুরূহ কাজে নেমে পড়ে। কিন্তু আজ টের পাই, কাজের চেয়ে অকাজের পরিমাণ হয়েছে অনেক বেশি। কিন্তু ব্যর্থতার তালিকা শুধু এটুকুই?         

মিডিয়ার নিরন্তর ঢক্কানিনাদ এবং এক শ্রেণির প্রচারসর্বস্ব কবিদের বিজ্ঞাপনের চ্ছটায় আড়ালে থাকা কবিরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছিলেন। বই বের হওয়ার পরেও তাঁরা বাংলা কবিতার মানচিত্রে সেভাবে ঠাঁই পাচ্ছিলেন না। তরুণ প্রজন্মের কবিরাও অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন। কিন্তু এর তো একটা বিহিত হওয়া দরকার। কিন্তু করবেন কে? বিরাট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কে বুক পেতে দেবেন ? 

কুম্ভের যে নকল বুদিঘর ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই, তা অনেকসময়  তার খেয়াল ছিল না। সীমিত সামর্থ্য এবং আরও সীমিত লোকবল দিয়ে সে নেমে পড়ে উন্মুক্ত এবং চোরাগুপ্তাময় রণাঙ্গনে। উদ্দেশ্য, বাংলা কবিতার প্রকৃত গতিমুখকে চিহ্নিত করা। কিন্তু পুরোপুরি উন্মাদ কোনো প্রান্তিক কবির পক্ষে এই দুরূহ কাজ করা যে সম্ভব নয়, তা তাকে বোঝাবেন কে? 

আদম পত্রিকা ও প্রকাশনার উদ্যেগে ২০১৩ সালে যথারীতি প্রবর্তন হয় একটি ব্যতিক্রমী সম্মাননা। আদমসম্মাননা। শুরুতেই দেখা যায় গয়ংগচ্ছ মনোভাব। ২০১৩ সালের আদমসম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে, কলকাতার রোটারি সদনে । সম্মাননা জ্ঞাপন করেন বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক শঙ্খ ঘোষ। 

কবিতার যে গতানুগতিক পথ সেদিকে না হেঁটে যাঁরা নতুন পথের সন্ধান করছেন তাঁদেরকে সম্মানিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। প্রথম বছর আজীবন কবিতাযাপন ও কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য আদমসম্মাননা জ্ঞাপন করা হয় বিগত শতাব্দীর পাঁচের দশকের বিশিষ্ট দুই কবি আলোক সরকার এবং শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। তরুণ কবি হিসেবে এই সম্মাননা পান ভারত এবং বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট পাঁচজন কবি। জিৎ মুখোপাধ্যায়, নওশাদ জামিল, সোহেল হাসান গালিব, তারিক টুকু এবং দেবাশিস মহারানা। কিন্তু সম্মাননা শুধুই কবিতায়? অন্যান্য বিভাগ নয় ?

সম্পাদনা, গবেষণা এবং কবিতায় রচনার জন্য আদমসম্মাননা পান জীবনানন্দ-গবেষক এবং কবি ভূমেন্দ্র গুহ। চিত্রকর এবং প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে এই সম্মাননা অর্পণ করা হয় হিরণ মিত্রকে। বাংলাভাষার অন্যতম চরিত্রবান লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে সম্মানিত হয় অনুবর্তন পত্রিকাকে। আরও একটি বিভাগ ছিল :  লিটল ম্যাগাজিনের পুরোধা পুরুষ’। এই বিভাগের জন্য একজনের নামই তৎকালীন সময়ে মাথায় আসে। তিনি ‘কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্র’-র প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাণপুরুষ সন্দীপ দত্ত (১৯৫১-২০২৩)। খুব স্বাভাবিকভাবেই ওই সভায় একই গুরুত্বসহকারে তাঁকেও আদমসম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলিতে অন্যান্য বিভাগের প্রায় প্রতিটিতে সম্মাননা জ্ঞাপনের প্রক্রিয়া চালু থাকলেও লিটল ম্যাগাজিনের পুরোধাপুরুষ হিসেবে আর কাউকেই এখনও পর্যন্ত  সম্মানিত করা হয়নি। 

এখন প্রশ্ন, প্রথম বছরে কেন ওই বিভাগে সম্মাননার জন্য এককভাবে সন্দীপ দত্তকে নির্বাচন করা হল? আর কেনই বা পরবর্তী বছরগুলিতে ওই বিভাগে আর কাউকেই সম্মানিত করা হল না? তাহলে তিনিই কি বাংলা ভাষার লিটল ম্যাগাজিনের শেষ পুরোধা পুরুষ? 

আসলে আজ লিটল ম্যাগাজিন যে একটা ব্যাপার হয়ে‌ উঠেছে, একটা সম্মানজনক প্রসারিত পরিমণ্ডল তৈরি করতে পেরেছে– এর পেছনে, আমার মনে হয়, রয়েছে সন্দীপ দত্তের বিরাট অবদান। নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস। কীভাবে?

১৯৬৬ সালে যখন সন্দীপ দত্ত যখন ক্লাস নাইনের ছাত্র, সেইসময় “দৈনিক কবিতা” পত্রিকায় তাঁর একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। সেই দিয়ে শুরু হয় তাঁর লিটল ম্যাগাজিন সংগ্ৰহের অভিযান। এরপর তিনি যখন স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্র, একদিন দেখলেন বা়ংলা‌ ডিপার্টমেন্টের এককোণে তাঁর পত্রিকা “পত্রপুট”সহ আরও অনেক লিটল ম্যাগাজিন দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন? জিগ্যেস করলে জানতে পারেন এগুলো আর কলেজে রাখা হবে না, ফেলে দেওয়া হবে। শুধু এই কলেজে নয়, এই একই ধরনের ঘটনা ঘটতে তিনি দেখেন ন্যাশনাল লাইব্রেরিতেও।

লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কে একটা নামী কলেজের বাংলা ডিপার্টমেন্ট এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরির মতো একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের যদি এই মনোভাব হয় তাহলে এই কাগজগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ভেবে খুব স্বাভাবিকভাবেই সন্দীপ দত্ত শিহরিত হন। কিন্তু ভেঙে না পড়ে একটা বিহিত করার কথা তখন থেকেই তিনি ভাবতে শুরু করেন। বিহিত তো করতেই হবে, কিন্তু কীভাবে? মোবাইল নেই, ফেসবুক নেই, হোয়াটসঅ্যাপ নেই। নেই এমনকী অর্থও। লোকবল। তাহলে ?

আর কিছু না থাক জেদ তো আছে । তা দিয়েই ১৯৭২ সালে, ২১ বছর বয়সে প্রায়‌ সাড়ে চারশো লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী একটা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু অচিরেই বুঝতে পারেন, লিটল ম্যাগাজিন সংগ্ৰহের কাজ সঠিকভাবে পালন করতে হলে, প্রর্দশনী নয়, সর্বাগ্ৰে  গড়ে তোলা দরকার একটা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরির।  কিন্তু কোথায়? এর জন্য তো অনেকটা জায়গা দরকার। এই অকাজের জন্য জায়গা কে দেবে‌ন ?

১৯৭৮ সালের ২৩ জুন কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নিজস্ব বাসভবনের নীচের তলায় বৃষ্টিমুখর এক বিকেলে লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরির শুভ সূচনা করেন। সেসময় লাইব্রেরির নাম ছিল “বাংলা সাময়িকপত্র পাঠাগার ও গবেষণাকেন্দ্র”। এরপর এই পাঠাগারই পরবর্তীকালে “কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্র” নামে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায় । ক্রমশ বাড়তে থাকে এর কলেবর । পত্র-পত্রিকা ও বইয়ের সংখ্যা। সমানুপাতিক হারে পাঠক এবং গবেষকের সংখ্যাও।

সন্দীপ দত্তের বিপুল অর্থনাশ ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ‌ ‘কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্র’ এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যেখানে ছাত্র ও অধ্যাপক, কবি ও গদ্যকার, গবেষক ও সম্পাদক– সবাইকেই নানান প্রয়োজনে এখানে আসতে হয় । শুধু দেশ নয়, বিদেশ‌ থেকেও নিয়মিত গবেষকরা এখানে আসেন। আমরাও, অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, আদম পত্রিকার বেশ কয়েকটি সংখ্যা প্রস্তুত করার ব্যাপারে লাইব্রেরির সাহায্য নিয়েছি । এখনও অনেক সময় নানানভাবে সাহায্য নিই। 

লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত লেখা সংক্রান্ত যেকোনো ব্যাপারে কোনো স়ংশয় মনে এলে মুহূর্তের মধ্যে সন্দীপদার কাছে থেকে পেয়েছি যথাযথ উত্তর। আসলে লিটল ম্যাগাজিন সংক্রান্ত ব্যাপারে তিনি ছিলেন চলমান বিশ্বকোষ। 

বিভিন্ন সময়ে দুষ্প্রাপ্য লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ, আমাদের অনুরোধে, তিনি নিজের উদ্যোগে জেরক্স করে রাখতেন। শুধু তাই নয়, আদম আয়োজিত অধিকাংশ কবিতাসন্ধ্যায় তিনি উপস্থিতও থাকতেন । বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মঞ্চে নয়, শ্রোতার আসনে বসতেই তিনি স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন।

তিনি নিজেও লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্রের প‌ক্ষ থেকে নিয়মিত সাহিত্যসভার আয়োজন করতেন। প্রতিবছর লিটল ম্যাগাজিন‌ লাইব্রেরির পক্ষ থেকে একজন গবেষক, লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও প্রাবন্ধিককে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হত।

কলকাতা বইমেলায় বা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় কেউ স্টল পেতে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে তিনি একটা সময় পর্যন্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দ্বিধা করতেন না। শেষদিকে অসুস্থ শরীর নিয়েও  বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন মেলায় তিনি উপস্থিত হতেন। মেলা উদ্বোধন করে বা বক্তৃতা দিয়ে তিনি চলে আসতেই পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে, মেলা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্টল থেকে লিটল ম্যাগাজিন সংগ্ৰহ করতেন। 

লিটল ম্যাগাজিনের প্রতি প্রকৃত দরদ না থাকলে এ জিনিস দীর্ঘদিন ধরে করা যায় না। বাঙালি জাতি হিসেবে যেসব সম্পদের জন্য আমরা গর্ব অনুভব করতে পারি, তাদের মধ্যে, আমার মনে‌ হয়, “কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্র”ও অন্যতম।

তবে সাংগঠনিক ব্যাপারে তাঁকে এতটাই সময় দিতে হত, এর জন্য তাঁর সৃজনশীল দিকটা, আমার মনে হয়, বেশ খানিকটা ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে । কিন্তু তার মধ্যেই তিনি সম্পাদনা করেছেন তিনটি লিটল ম্যাগাজিন। “পত্রপুট”, “হার্দ্য” এবং “উজ্জ্বল উদ্ধার” । লিখেছেন “বাংলা কবিতার কালপঞ্জি ১৯২৭-১৯৮৯‌”-এর মতো আশ্চর্য একটি বই। কিছু ভুল ভ্রান্তি আছে ঠিকই কিন্তু এইরকম গবেষণামূলক ও শ্রমসাধ্য কাজ বাংলা ভাষায় খুব বেশি আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু শুধু এটুকুই? তিনি লিখেছেন “বাংলা প্রসঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন”( ১৯৮৭),, “বাংলা কবিতা আন্দোলনের তিন দশক” (১৯৯৩), “বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কালপঞ্জি”( ১৯৯৪), “তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় কালপঞ্জি”( ১৯৯৮), “স্ল্যাংগুয়েজ”( ২০০০), “লিটল ম্যাগাজিন ভাবনা”( ২০০০),”বাংলা সাময়িক পত্রের ইতিবৃত্ত”( ২০১২)”সহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই। আছে কিছু সম্পাদিত বইও। “জীবনানন্দ প্রাসঙ্গিকী”(১৯৮৪), “সুভাষ মুখোপাধ্যায়: জীবন ও সাহিত্য”(১৯৯৫), “বাংলা ভাষা বিতর্ক”(২০০৪) প্রভৃতি। আর কবিতা ? কাউকে বলতেন না ঠিকই, কিন্তু তিনি মোটামুটি নিয়মিত কবিতাও লিখতেন। তাঁর ‌প্রথম কাব্যগ্ৰন্থ প্রকাশিত হয় সেই সত্তর দশকে, “কবিতা কোলাজ” (১৯৭৪)।

আমরা একবার কৃষ্ণনগরে খানিকটা ঘটা করে লিটল ম্যাগাজিন মেলা ও সাহিত্য উৎসবের আয়োজন করেছিলাম। সেসময় সন্দীপদার শারীরিক অবস্থা একেবারেই ভালো ছিল না। আমরা অনুরোধ করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু পীড়াপীড়ি করিনি। কিন্তু তিনি লোকাল ট্রেনে চেপে যথাসময়ের আগেই মেলায় চলে এসেছিলেন। লিটল ম্যাগাজিনের ইতিহাস নিয়ে মঞ্চে চমৎকার একটি বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। মনে পড়ে, সন্দীপ দত্ত ছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সুধীর চক্রবর্তী, পলাশবরণ পাল, দেবদাস আচার্য, গৌতম বসু, মৃদুল দাশগুপ্ত, গৌতম চৌধুরী প্রমুখ প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। সন্দীপদা

উদ্বোধন করেছিলেন ‘নদিয়ার প্রদর্শনশালা’ শীর্ষক একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ স্টল । কিন্তু এসব করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। অশক্ত শরীরে ঘূ্রে ঘুরে লিটল ম্যাগাজিন সংগ্ৰহ করেছিলেন। তো এইরকম একজন মানুষকে লিটল ম্যাগাজিনের পুরোধাপুরুষ বলব না তো আর কাকে বলব? কেউ আছেন এমন নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা? বৃহত্তর বাংলায়?

লিটল ম্যাগাজিন অন্তপ্রাণ এই মানুষটি জন্মগ্ৰহণ করেন ১৯৫১ সালের ২৪ জুলাই, কলকাতায়। আজ তিনি সশরীরে নেই ঠিকই কিন্তু রয়ে গিয়েছে তাঁর দরদ ও শ্রম দিয়ে গড়ে তোলা লাইব্রেরি।  ৭৭ তম জন্মদিনে কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণাকেন্দ্র’-র প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাণপুরুষ সন্দীপ দত্তকে জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *