Skip to main content

Hello Testing

ফি চা র  স্টো রি

মধুসূদন রায়

madhududan

ইতিহাস এবং বর্তমানের আলোকে কবিতার প্রতিবাদী শক্তি

কবিতা মানুষের মনোজগতের গভীরতম কোণে যেমন অনাবিল প্রশান্তি ও আনন্দ বয়ে আনে, তেমনই এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সবচেয়ে ধারালো ও অমোঘ অস্ত্র। মানুষ যখন একাকী থাকে, তখন কবিতার পঙক্তিমালা নিঃসঙ্গতা দূর করে অন্তরে এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি ও ডোপামিন ক্ষরণ ঘটায়—এ কথা যেমন চিরন্তন সত্য, তেমনই সত্য যে, যখন রাষ্ট্র বা সমাজ সংকটে পড়ে, তখন কবিতা হয়ে ওঠে বিপ্লবের অপর নাম। বর্তমান বিশৃঙ্খল, বৈশ্বিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে কবিতার এই প্রতিবাদী রূপটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলার মাটি ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, মানবসভ্যতার প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে কবিরা কলমকে বানিয়েছেন তলোয়ারের চেয়েও শক্তিশালী। আজকের এই দীর্ঘ পরিসরে আমরা আলোচনা করব কীভাবে বাংলার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কবিরা তাদের প্রতিবাদের ধরন ও ভাষার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে নাড়িয়ে দিয়েছেন এবং বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিত ও ছাত্র-যুব সমাজের ওপর এর প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী।

১. অন্তরের প্রশান্তি থেকে প্রতিবাদের অগ্নিশিখা: কবিতার দ্বৈত রূপ

কবিতা মানুষের আবেগের এক অপূর্ব ও বহুমুখী প্রকাশ। এর রয়েছে এক অপূর্ব দ্বৈত সত্তা। একাকিত্বের মুহূর্তে কবিতা মানুষের মনে করিয়ে দেয় যে সে একা নয়; এর পঙক্তিমালা মনের ক্ষতগুলো নিরাময় করে এবং এক অদ্ভুত মানসিক শক্তি যোগায়। কিন্তু কবিতার এই কোমল রূপের বাইরেও এর আরেকটি শক্তিশালী দিক রয়েছে, যা এর চেয়েও বহুগুণ বেশি প্রভাব বিস্তারকারী। তা হলো কবিতার প্রতিবাদী সত্তা।

চারদিকে অন্যায়, অবিচার, শোষণ এবং পরাধীনতার অন্ধকার নেমে এলে বন্দুক বা তরবারির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে একটি পঙক্তি, একটি স্লোগান বা একটি পূর্ণাঙ্গ কবিতা। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, বারুদ বিস্ফোরণের চেয়েও অনেক দ্রুত মানুষের মস্তিষ্কে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে একটি তীক্ষ্ণ প্রতিবাদী কবিতা। মানুষের ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা বিবেককে জাগিয়ে তুলতে এবং শোষকের মসনদে কম্পন ধরাতে শব্দের চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু হতে পারে না।

২. বাংলা সাহিত্যের প্রোজ্জ্বল ধারা: রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে বিদ্রোহী ও প্রগতিশীল কবিরা

বাংলা সাহিত্য বরাবরই প্রতিবাদের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস বহন করে আসছে। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিবারই বাংলার কবিরা কলম ধরেছেন নিপীড়িত মানুষের পক্ষে।

        এক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বজনীন প্রতিবাদ: শান্তিনিকেতনের ঋষি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবসময় মানবতার পক্ষে কলম ধরেছেন। ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইট উপাধি’ ঘৃণাভরে বর্জন করে তিনি তৎকালীন ভাইসরয়কে যে চিঠি লিখেছিলেন, তা ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদ। তাঁর ‘চিত্ত যেখানে ভয়শূন্য, উচ্চ যেখানে শির’ বা ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গান ও কবিতা আজও মানবমুক্তির চিরন্তন দলিল এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়ানোর প্রেরণা।

        দুই। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম: প্রতিবাদের কথা উঠলেই সবার আগে অবধারিতভাবে আসে কাজী নজরুল ইসলামের নাম। তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কিংবা ‘কারার ঐ লোহকপাট’ গানটি পরাধীন ভারতের তরুণ সমাজকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছিল। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজরুল হয়ে উঠেছিলেন অগ্নিবীণার ঝংকার। তাঁর লেখনীতে সাম্যবাদের জয়গান গীত হয়েছে এবং শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দেওয়া হয়েছে।

        তিন। সুকান্ত ভট্টাচার্য ও তারুণ্যের প্রতীক: বাংলা কবিতার আরেক প্রবাদপ্রতিম প্রতিবাদী মুখ সুকান্ত ভট্টাচার্য। খুব অল্প বয়সে মারা গেলেও তাঁর দীপ্ত উচ্চারণে অবহেলিত ও শোষিত মানুষের পক্ষে যে আওয়াজ উঠেছিল, তা চিরকাল তরুণ প্রজন্মকে পথ দেখাবে। “আর্তের তরে আজ প্রয়োজন কঠিন প্রহার”, কিংবা “হাড় সর্বস্ব মানুষেরা যায় চলে— / এদেশ কি তবে শুধু স্মৃতির কবরে?”—এই পঙক্তিগুলো শোষক শ্রেণীর বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিত।

         চার। ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলন: একুশে ফেব্রুয়ারির পটভূমিতে লেখা আবদুল গাফফার চৌধুরীর “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানটি কিংবা মাহবুব উল আলম চৌধুরীর “কাঁদতে আসেনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি” কবিতাটি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ভাষার অধিকার রক্ষায় কবিদের এই অবদান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

৩. বিশ্বসাহিত্যের প্রতিবাদী ধারা: ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিদ্রোহী কবিরা

প্রতিবাদের কবিতা কেবল বাংলায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের নানা প্রান্তে, ভিন্ন ভাষার কবিরা তাদের নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বর্ণবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। তাঁদের প্রতিবাদের ধরন ও ভাষা বিশ্ব সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে।

      ক। পাবলো নেরুদা (চিলি): নোবেলজয়ী চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা কেবল প্রেমের কবিতা লেখেননি, তিনি ছিলেন চিলির রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের এক দীপ্ত প্রতীক। তাঁর কবিতায় ল্যাটিন আমেরিকার সাধারণ মানুষের ওপর চলা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের শোষণ ও লাতিন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর প্রতিবাদী কবিতাগুলো সাধারণ মানুষকে অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

      খ।‌ মায়াকোভস্কি ও রুশ বিপ্লব: ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি রুশ বিপ্লবের আগের ও পরের উত্তাল সময়ে কবিতার ভাষাকে একেবারে বদলে দিয়েছিলেন। প্রথাগত রোমান্টিকতার গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল সোচ্চার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইশতেহার। তাঁর প্রতিবাদের ধরন ছিল আক্রমণাত্মক, সরাসরি এবং ব্যঙ্গাত্মক, যা তৎকালীন রুশ সমাজব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।

        গ। নাজিম হিকমত (তুরস্ক): তুর্কি ভাষার মহান কবি নাজিম হিকমত তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় জেলের অন্ধকারে কাটিয়েছেন কেবল তাঁর বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতার জন্য। জেলের ভেতর থেকে লেখা তাঁর কবিতাগুলো বিশ্বজুড়ে মুক্তির লড়াইয়ে শামিল মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রতিবাদের ভাষা ছিল অত্যন্ত মানবিক, অথচ অনমনীয় ও দৃঢ়।

       ঘ। আইরিশ ও আফ্রিকান প্রতিবাদী সাহিত্য: আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস তাঁর ‘ইস্টার ১৯১৬’ কবিতায় আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের অমর করে রেখেছেন। অন্যদিকে, আফ্রিকান কবি যেমন লিয়োপোল্ড সেঙ্গার বা চিনুয়া আচিবে ও ভোলে সোয়িঙ্কা (সাহিত্যিক হলেও তাঁদের রচনায় কবিতার তেজ রয়েছে) উপনিবেশবাদ এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে শব্দকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁদের প্রতিবাদের ধরন ছিল নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়ের অহংকার তুলে ধরার মাধ্যমে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদকে অস্বীকার করা।

৪. কবিদের প্রতিবাদের ধরন ও শৈল্পিক বৈচিত্র্য

বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদী কবিদের লেখার ধরন ও কৌশল বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কেউ সরাসরি স্লোগানের মতো শানিত ভাষায় আক্রমণ করেন, আবার কেউ রূপক ও প্রতীকের আশ্রয়ে গভীর আঘাত হানেন।

  • সরাসরি আক্রমণ ও স্লোগানধর্মী কবিতা: কিছু কবি সরাসরি শোষকের নাম ধরে, তাদের অন্যায় ও দুর্নীতির চিত্র এঁকে কবিতা লেখেন। এই ধরনের কবিতা দ্রুত মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এবং মিছিলে স্লোগানে রূপান্তরিত হয়।
  • ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক স্যাটায়ার: ব্যঙ্গাত্মক কবিতার মাধ্যমে শাসকদের মুখ থেকে মুখোশ খুলে নেওয়া এক প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি। শাসকশ্রেণী যখন নিজেদের ভুল বুঝতে চায় না, তখন ব্যঙ্গ তাদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়।
  • প্রতীকী ও রূপকধর্মী প্রতিরোধ: অনেক সময় যেখানে সরাসরি কথা বলা বা সেন্সরশিপের কারণে লেখা নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেখানে কবিরা রূপক বা পৌরাণিক কাহিনীর সাহায্য নেন। এই ধরনের কবিতা বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজকে নাড়া দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিবাদ গড়ে তোলে।
  • সঙ্গীত ও আবৃত্তির শক্তি: অনেক প্রতিবাদী কবিতা গানে রূপান্তরিত হয়ে গণমানুষের কন্ঠে ধ্বনিত হয়। ল্যাটিন আমেরিকার ‘নিউ সং’ আন্দোলন কিংবা বাংলার গণসঙ্গীত এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

 

৫. বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিত: বৈশ্বিক সংকট এবং কবিতার নতুন ভূমিকা

আজকের একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে চলা করপোরেট শোষণ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, এবং গণতন্ত্রের মুখোশ পরা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা। আজকের দিনে প্রতিবাদের ধরন বদলেছে, কিন্তু কবিতার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি।

  • ডিজিটাল যুগে প্রতিবাদের নতুন রূপ: বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে কবিতার পঙক্তি আজ লাখো মানুষের প্রতিবাদের স্লোগানে পরিণত হয়। যখনই কোনো রাষ্ট্রে বা সমাজে জনগণের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়, তখনই তরুণ সমাজ কবিতার লাইনগুলোকে হাতিয়ার করে ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগত থেকে রাজপথে নেমে আসে। একটিমাত্র শক্তিশালী কবিতা বা পঙক্তি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে পারে।
  • ছাত্র-যুব সমাজের দিশারি: বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-যুব সমাজ যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন, দুর্নীতিবিরোধী লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা যেকোনো বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের পাথেয় হয় পুরোনো ও নতুন প্রতিবাদী পঙক্তিমালা। কবিতার তীক্ষ্ণ ভাষা তাদের হৃদয়ে সাহস জোগায় এবং পুলিশের লাঠি বা শাসকের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।
  • সরকার ও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ: বর্তমানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক সরকারই জনমতকে তোয়াক্কা করতে চায় না এবং ভিন্নমত দমন করতে তৎপর থাকে। কিন্তু কবি ও লেখকদের শানিত কলম যখন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে, তখন সেই সমালোচনা সরকারের ভিত নড়িয়ে দেয়। কবিতা হয়ে ওঠে এমন এক নৈতিক শক্তি, যা আইন, পুলিশ বা সেন্সরশিপ দিয়ে চিরতরে দমন করা যায় না।

 

৬. গণতন্ত্র, সমাজব্যবস্থা এবং পাহারাদার হিসেবে কবিতার ভূমিকা

একটি সুস্থ গণতন্ত্রের প্রাণভোমরা হলো স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্তচিন্তা। সমাজব্যবস্থার গভীরে লুকিয়ে থাকা বৈষম্য, জাতপাত, ধর্মান্ধতা এবং শ্রেণিভেদ দূর করতে কবিতার ভূমিকা অনন্য। কবিদের কবিতার ভাষা যখন ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় পাঠকদের বিবেককে নাড়া দেয়, তখন সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে ওঠে।

       সচেতন নাগরিক সমাজই হলো যেকোনো একচেটিয়া বা ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ দুর্গ। কবিতা কেবল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে না, এটি সমাজব্যবস্থার অসংগতিগুলোকে আয়নার মতো সামনে এনে দেয়। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে কবিতা এক অবিচল সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

        সবশেষে বলা যায়, কবিতা কেবল মনের খোরাক, একাকিত্বের সঙ্গী বা ডোপামিন ক্ষরণের মাধ্যম নয়; কবিতা হলো শোষিত মানবতার অবিনাশী প্রতিবাদ ও বিপ্লবের অপর সাইরেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নেরুদা কিংবা হিকমতের পথ ধরে আজও যখন পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে তরুণ কবিরা কলম ধরেন, তখন সেই শব্দের আস্ফালন গোটা সমাজব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সময়ের এই জটিল ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে কবিতার ভাষা হওয়া উচিত আরও বেশি তীক্ষ্ণ, নির্ভীক ও প্রগতির পক্ষে, যা অন্ধকার ভেদ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং সুন্দর পৃথিবী গড়ার লড়াইয়ে চিরকাল মানবজাতিকে পথ দেখাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *