স্বা স্থ্য
ডঃ পারমিতা ভট্টাচার্য
মিড লাইফ ক্রাইসিস
‘মিড লাইফ ক্রাইসিস’ বা মধ্যবয়সী সংকটের ভুক্তোভোগী আমরা সবাই কম-বেশী। কিন্তু কী এই ‘মিড লাইফ ক্রাইসিস’? ‘মিড লাইফ ক্রাইসিস’ হল কিছু বিশেষ অনুভূতি যা আমরা অনুভব করি আমাদের জীবনের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে এসে।
একটু খতিয়ে দেখা যাক, সেই অনুভূতিগুলো ঠিক কীরকম—
১। এই মাঝ বয়সে এসে জীবনের যে ইচ্ছে বা লক্ষ্যগুলি এখনও অর্জন করা হয়নি তার জন্য গভীর অনুশোচনা বোধ।
২। নিজের থেকে আরও সফল সহকর্মীদের মাঝে অপমানিত বোধ করার ভয়।
৩। যৌবনের অনুভূতি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা।
৪। একা বা নির্দিষ্ট কয়েকজন সমবয়সীদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো।
৫। যৌনতা বা এর অভাব সম্পর্কে তীব্র অনুভূতি।
৬। বৈবাহিক, কর্ম, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বা সামাজিক অবস্থানের প্রতি অসন্তুষ্টির কারণে একঘেয়েমি, বিভ্রান্তি, বিরক্তি বা রাগ।
৭। জীবনের প্রথম দিকে নেওয়া ভুল পদক্ষেপগুলি এই বয়সে এসে সংশোধন করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
কিন্তু এর পরিণাম কী? এর পরিণাম কিন্তু মোটেই সুখকর নয়। মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের উপরও এর ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে।
সাধারণত যে শারীরিক পরিবর্তনগুলি ঘটে তা হল—
১। দেহের অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি,
২। ত্বকে বলিরেখা দেখা দেওয়া,
৩। ত্বক ঝুলে পড়া,
৪। চুল পড়া ও অকালে চুল পেকে যাওয়া।
চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ
একমাত্র নিয়মিত ব্যায়াম এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এই সময় একজনের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। জীবনের প্রথম দিকে গ্রহণ করা উল্লেখযোগ্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলি মধ্যবয়সী সংকট বা ‘মিড লাইফ ক্রাইসিস’ থেকে রক্ষা করতে পারে। এই তত্ত্বকে সমর্থন করার জন্য একটি উদাহরণ সুসান ক্রাউস হুইটবোর্নের পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে নেওয়া যেতে পারে। যাঁরা তাঁদের মধ্যবয়সে পৌঁছানোর আগে চাকরি পরিবর্তন করেন মধ্যবয়সে পৌঁছানোর পর তাঁদের মধ্যে অনেক পরিণত ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়। তাঁরা স্থবিরতা থেকে সরে আসার এবং তরুণ প্রজন্মকে উন্নতি করতে সাহায্য করার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। এটি এরিক এরিকসন দ্বারা প্রস্তাবিত একটি মনস্তাত্ত্বিক পর্যায় যা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যবয়সের স্বাভাবিক পর্যায়ের বর্ণনা দেয়। একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে প্রথমেই বোঝানো উচিত যে সে যেন তার জীবন তার ইচ্ছে অনুযায়ী কাটান।
ডঃ পারমিতা ভট্টাচার্য
ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সিলর