স্বা স্থ্য
ডঃ পারমিতা ভট্টাচার্য
আপনার সন্তানকে পরীক্ষার চাপ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন
স্কুল জীবনে পরীক্ষা শিশু ,ছাত্র ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় হতে পারে। কিন্তু ছাত্রজীবনে মানসিক চাপ কমানোর উপায় আছে।ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে মানসিক চাপের লক্ষণগুলি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। যে সব ছাত্র ছাত্রীরা মানসিক চাপে ভোগে তাদের মধ্যে প্রায়শই নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা যায়..
অতিরিক্ত চিন্তা,অত্যধিক ,উত্তেজনা,অকস্মাৎ মাথা এবং পেট ব্যথা, অনিদ্রা,খিটখিটে স্বভাব ,খাবারে অনীহা বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাওয়া,কথা কম বলা,নেতিবাচক চিন্তা,হঠাৎ মেজাজ হারানো,ভবিষ্যত সম্পর্কে আশাহীন বোধ করা ।এক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কথা বলার মতো একজন অভিভাবক, গৃহশিক্ষক বা বন্ধুর সহায়তা লাভজনক হতে পারে।ছাত্র ছাত্রীদের উদ্বেগগুলির কথা শোনার ও বোঝার মতো একজন দূরদর্শী মানুষ প্রয়োজন ।
এক্ষেত্রে সন্তানকে স্কুলে এমন একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার কথা বলতে উৎসাহিত করা উচিত যাঁকে তারা সহায়ক বলে মনে করতে পারবে।যতটা সম্ভব ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ের নানা কার্যকলাপের সাথে যুক্ত রাখা উচিত। ছাত্র ছাত্রীদের খাওয়া দাওয়ার দিকে খেয়াল রাখাও ভীষণভাবে প্রয়োজনীয় ।সুষম খাদ্য ছাত্র ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক, এবং পরীক্ষার সময়কালে ভালো ও পুষ্টিকর খাবার পরীক্ষার চাপ কমাতেও সাহায্য করে।
কিছু বাবা-মা পরীক্ষার সময়ে উচ্চ চর্বিযুক্ত, উচ্চ-চিনিযুক্ত এবং উচ্চ-ক্যাফিনযুক্ত খাবার এবং পানীয়, যেমন এনার্জি ড্রিংকস, কোলা, মিষ্টি, চকোলেট, বার্গার এবং চিপস তাদের সন্তানদের দেন, যা তাদের সন্তানদের হাইপার অ্যাক্টিভ, খিটখিটে এবং মুডি করে তোলে।
যতটা সম্ভব,শিশুদের কেনা খাবার এড়িয়ে চলতে এবং কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে উৎসাহিত করা উচিত।
শিশুদের মানসিক ভাবে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ ভালো ঘুম চিন্তা ও একাগ্রতা বাড়ায়। বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরীদের প্রতি রাতে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজন।সন্তানের পড়াশুনা, টিভি দেখা বা কম্পিউটার ব্যবহার করা এবং বিছানায় যাওয়ার মধ্যে আধ ঘন্টা বা তার বেশি সময়ের ব্যবধান রাখা উচিত, যাতে তাদের রাতে ভালো ঘুম হয়।
পরীক্ষার আগে সারারাত পড়াশোনা করা সাধারণত অনুচিত। আতঙ্কিত হয়ে শেষ মুহূর্তে কয়েক ঘণ্টার অধ্যয়নের চেয়ে পর্যাপ্ত ঘুম ছাত্রছাত্রীদের অনেক বেশি উপকৃত করে।
পরীক্ষার সময় অভিভাবকদের নমনীয় হওয়া উচিত। ছাত্র ছাত্রীরা যখন পরীক্ষার সময়ে সারাদিন পড়াশোনা করে, তখন গৃহস্থালির কাজ বা অপরিচ্ছন্ন বেডরুমের বিষয়ে চিন্তা করে তাকে বিব্রত করা অনুচিত।
পরীক্ষার সময়ে ছাত্র ছাত্রীদের মন শান্ত রাখা উচিত। মনে রাখা উচিত পরীক্ষা চিরকাল স্থায়ী হয় না। পরীক্ষার আগে কঠিন মনে করা অংশগুলোর উপর ফোকাস করার পরিবর্তে যে অংশগুলি ভাল প্রস্তুত হয়েছে সেগুলি নিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে আলোচনা করা উচিত ।
পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে, পরীক্ষার সমাপ্তির ট্রিট আয়োজন করে সন্তানদের সাথে মুহূর্ত উদযাপন করা উচিত ।
কিন্তু ছাত্রজীবনে সন্তানের উদ্বেগ যদি গুরুতর হয়, অব্যাহত থাকে তখন তাদের দৈনন্দিন জীবনে ভালো রাখতে মনস্তত্ত্ববিদের সাহায্য নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
ডঃ পারমিতা ভট্টাচার্য
ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ও কাউন্সিলর