মু ক্ত গ দ্য 

সুপর্ণশু

suparnashu

জাতিস্মর

আলোর নীচে ঘুমে কাতর এখন অলৌকিক শিশুরা। পরের গন্তব্য কোথায় কেউ জানে না… ওদের ঘুমন্ত ছবিটা তৈলচিত্রের মতো ফুটিয়ে তুলছে নির্ঘুম এই রাত। ঘুমের অতলজগতে ডুবে আছে শহর।

আদিম এই রাতের চারপাশে— পুরনো বসতির অলিতে গলিতে ভেসে আছে চাপা শীৎকার… যার নিখাদ গভীরে শুধু আলোর গন্ধ! প্রতিশ্রুতির মতো অস্থির শব্দেরা চুরমার হয়নি তাই এখনও কাচের মতো …

বড়ো অদ্ভুত রাত! আত্মপ্রকাশ করছে নিজেকে ধীরে ধীরে, সামলে। তাকে লাগছে অচেনা পথের মতো— কখনও রহস্যের পোশাকি নাম নিয়ে মিশে যাচ্ছে সজীব কুয়াশায়।

মাঝে মাঝে শুকনো পাতারা অলীক ডানা নিয়ে উড়ে যাচ্ছে অচেনা দিশায়…

সৌন্দর্যের মায়াবুননে এখন কথা হারিয়ে ফেলছে মুহূর্ত… মনে পড়ছে কিছু…! পুরনো পাতা উলটে পালটে দিচ্ছে পোষা হাওয়া। যেন কারোর কারসাজি! কিন্তু কার…? এক সময় প্রশ্ন নিভে আসে হাওয়ার দাপটে।

মালভূমির পথে পথে দেখি আজও হেঁটে যাচ্ছে এক কিশোর, নয়া জোৎস্নার টানে। ধূ… ধূ… মাঠ পড়ে আছে একাকিত্বের প্রচ্ছদ নিয়ে দূরে… তবুও সেখানে কোনও ফাঁকি নেই, গহীন দংশনও নেই। আছে শুধু নিষ্পাপ রোশনি…

কখনও সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে নেমে পড়ছি আলোছায়া ঘাটে, দেখছি রূপোলি আঁশ ভেসে আছে জলে। স্পর্শকাতর হাওয়া কথা বলে যাচ্ছে ভণিতাহীন।

সব আলোই কি জমকালো…? এ প্রশ্ন বারেবার ছুঁড়ে দিচ্ছে রাত… প্রশ্ন জমছে গভীরে। কাঁটায় কাঁটায় সময় এগিয়ে যায়।

জীর্ণ পর্দাটা সরাতেই দেখি একদশক আগের আলো ঝুঁকে এসে পড়ল জানলায়, ঘরের ভিতরের অন্ধকার গা ঢাকা দিয়েছে হঠাৎ। এই আলো উদ্দীপক, শিকড়ের মতো ছড়িয়ে যাচ্ছে শরীরে… পুনর্জন্ম নিয়ে জেগে উঠছে ব্যক্তিগত অণুমুহূর্ত। বুঝতে বাধা নেই আর যে আলোই একমাত্র জাতিস্মর…