গু চ্ছ ক বি তা
পৌ ল মী   গু হ
বিনীত নিবেদন
১
বয়স হলে মানুষ নাকি দাম্পত্য বোঝে
জ্বরের সময় দীর্ঘ হয়
প্রেশারের ওষুধ, টুকিটাকি
স্নানের জলে কবেকার প্রেমের বুদবুদ
ফিরতি পথে প্রেসক্রিপশন।
এসব ভাঁওতার মধ্যে জীবন কাটিয়ে
ক্লান্ত হয়ে কোকিল নিয়ে দু-চার কথা
লিখব ভাবি। ভেবেই যাই।
বয়স হলে মানুষ খালি ভেবে যায়।
ভেবে ভেবে বোঝা যায়, যতটা বাঁচার কথা ছিল
তার সিকিভাগও বাঁচা হয়নি
সময় ফুরিয়ে এল।
২
আমাদের ছাড়াছাড়ির ঠিক কত মাস পরে
আমি প্রথম ভালোবাসি বলেছিলাম,
আমার এখন মনে পড়ছে না।
যেমন মনে পড়ছে না, তোমার মা কেন রাজি হননি
কেনই বা তুমি শেষের দিকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে।
তবে কতগুলো দীর্ঘ মাস-বছর কাটিয়ে আবার আমরা
“ভালোবাসি” উচ্চারণ করতে পারি, সে হিসেব অবান্তর।
ভালোবাসা আসলে প্যালেস্তাইনের সেই মেয়েটির চোখের মতো।
যে দীর্ঘ ছ’মাস পরে ভাঙা ঘরে এসে দেখেছিল
তার বইয়ের তাকে প্রেমিকের দেওয়া কার্ড রাখা আছে।
এত যুদ্ধেও একটি পাতা উড়ে যায়নি…
৩
একটা শীত শীত ভোরে কাঁচা মাটির রাস্তায়
থমকে পড়ে ভেবেছিলাম,
বাবা নামের গাছটা বড়ো দ্রুত চলে গেছে।
মানুষ চলে গেলে শিশিরের কিছু হয় না।
শিশির ঝরে গেলে মানুষেরই বা কী হয়েছে কোনোদিন?