জি ভে জ ল
বুদ্ধদেব বসু তাঁর কবিতায় ইলিশ মাছকে বলেছেন ‘জলের উজ্জ্বল শস্য’। তাঁর কাছে বাংলার বর্ষা মানেই ‘ইলিশ-উৎসব’। বাংলা কবিতা থেকে শুরু করে সাহিত্যেও ইলিশের ছড়াছড়ি। স্বামী বিবেকানন্দর ইলিশ-প্রীতিও ছিল বিশ্ববিখ্যাত। স্বামী অভেদানন্দর লেখা বই থেকে জানা যায়, ১৯০২ সালের ৪ঠা জুলাই, তাঁর মহাপ্রয়াণের দিন স্বামীজি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলেন। বেলুড় মঠের প্রার্থনা গৃহে ধ্যান করেন তিনি ঘণ্টা তিনেক। এরপর ছাত্রদের শুক্লা-যজুর্বেদ, সংস্কৃত ব্যকরণ ও দর্শনশাস্ত্র শেখান। স্বামী প্রেমানন্দের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ পায়চারিও করেন তিনি, আলোচনা করেন রামকৃষ্ণ মঠের ভবিষ্যত্ নিয়ে। সেদিনই বেলুড়ঘাটে জেলেদের নৌকো ভিড়েছিল। নৌকো ভর্তি ছিল গঙ্গার ইলিশে। প্রেমানন্দকে বলে মহোৎসাহে কিনিয়েছিলেন তিনি সেই ইলিশ মাছ। সবার সঙ্গে বসে দুপুরে খেয়েছেন ইলিশের নানা পদ— ইলিশ মাছ ভাজা, সরষে দিয়ে ইলিশের ঝোল আর শেষপাতে ইলিশের টক। সেই রাত্রেই তাঁর মৃত্যু হল। ভক্তদের মতে, তিনি পুণ্যাত্মা মানুষ, ওই রাতেই তাঁর চলে যাওয়ার কথা ছিল, যাওয়ার আগে বেশ তৃপ্তি করে ইলিশের সব রকম স্বাদ নিয়ে গেলেন। আমাদের প্রিয় ‘কাকাবাবু’ কবি ও কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও ছিলেন ইলিশপ্রেমী। তাঁর একটি লেখায় তিনি লিখেছিলেন, ‘আসল ইলিশের স্বাদ দেড় কিলো থেকে পৌনে দু’কিলোতে। আমরা বাল্যকাল থেকে ইলিশের সমঝদার। আমার মতন এমন মানুষ খুব কমই আছে, যে জ্যান্ত ইলিশকে লাফাতে দেখেছে। ছোট ইলিশ কখনও খেতাম না, আর বরফের ইলিশ তো ছুঁয়ে দেখারও প্রশ্ন ছিল না।’
জ্যান্ত ইলিশ তো দূরের কথা, ইলিশের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত বাঙালীদের এখন ইলিশ ছুঁয়ে দেখাই একটি প্রশ্ন চিহ্নের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবু বাঙালিয়ানার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে এই ইলিশ মাছ এবং থাকবেও আর থেমে নেই ইলিশ নিয়ে তাদের নিত্য নতুন এক্সপেরিমেন্টও।
তবে ইলিশ মাছ যে শুধু বাংলাতেই পাওয়া যায় তা কিন্তু নয়, পৃথিবীর বহু দেশেই ইলিশ পাওয়া যায় বিভিন্ন নামে। তেলুগু ভাষায় ইলিশকে ‘পোলাসা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়, ওড়িয়া ভাষায় ‘ইলিশী’ আর গুজরাটে ইলিশ মাছ মোদেন (স্ত্রী) বা পালভা (পুরুষ) নামে পরিচিত। পাকিস্তানে এই মাছকে বলা হয় ‘পাল্লু মাছি’। আমেরিকায় ইলিশের নাম শ্যাড।
এই সংখ্যাতে রইল ইলিশের একটি নতুন পদ…
কী কী লাগবে
ইলিশ মাছ ৪ টুকরা, পিঁয়াজ বাটা ১/২ কাপ- আদা বাটা ১/২ চা চামচ- রসুন বাটা ১/২ চা চামচ- কাজু বাদাম বাটা ১ চা চামচ- কিসমিশ বাটা ১/২ চা চামচ- পোস্তদানা বাটা ১/৪ চা চামচ- মরিচ গুঁড়ো ৩/৪ চা চামচ- লবণ স্বাদ মত- টক দই ২ টেবিল চামচ- এলাচ ২-৩ টি- লবঙ্গ ২-৩ টি- দারুচিনি ১ টি- তেজপাতা ১ টি- গরম মশলা গুঁড়ো ১/৪ চা চামচ- ঘি ২ চা চামচ- তেল প্রয়োজন মত
কীভাবে বানাবেন
প্রথমে মাছগুলো ধুয়ে একটু নুন মাখিয়ে রাখতে হবে। তারপ্র একটি ননস্টিক প্যানে ১ চা চামচ ঘি আর পরিমাণ মতো তেল গরম করে এলাচ, দারুচিনি আর লবঙ্গের ফোড়ন দিয়ে মাছের টুকরোগুলো হালকা করে ভেজে তুলে রাখতে হবে। ওই তেলেই পিঁয়াজ, আদা, রসুন বাটা দিয়ে একটু কষিয়ে প্রয়োজন মত জল দিয়ে মরিচ গুঁড়ো, লবণ, কাজু বাদাম বাটা, পোস্ত বাটা, কিসমিশ বাটা, দই, তেজপাতা দিয়ে আরও কিছুক্ষণ কষিয়ে নিতে হবে। তারপর ভাজা মাছ গুলো দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে রান্না করতে হবে। রান্না শেষের দিকে গরম মশলা গুঁড়ো, বাকী ঘি আর সামান্য চিনি দিয়ে নামিয়ে ফেলতে হবে ও ওপর দিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে একটু কেশর। ব্যাস, তারপর পরিবেশন করুন গরম গরম ভাতের সাথে।