অ নু বা দ
ভাষান্তর: বাসুদেব দাস
অনির্বাণ দত্তর কবিতা: মূল অসমিয়া থেকে বাংলায় অনুবাদ
কবি পরিচিতি:
শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত কবি এবং নিবন্ধকার অনির্বাণ দত্তের জন্ম ১৯৭৯ সনে লখিমপুর জেলার ঢেঁকীয়াজুলী গ্রামে।প্রকাশিত তিনটি মৌ্লিক গ্রন্থ যথাক্রমে ‘ঢেঁকীয়াজুলীর ইতিবৃত্ত’, ‘এই মৌ্নতার অবসান হোক’ এবং ‘গছ আরু অন্য কবিতা’।সম্পাদিত কবিতা সংকলন দুটি।
বোধ হয় প্রতিটি মানুষই অন্ধ
বোধহয় প্রতিটি মানুষই অন্ধ
চোখের হাত ধরে ঘুরে বেড়ায় মাত্র
আর যে চোখ দুটি
এত অন্যমনস্ক
দিনের আলোতে গাড়িটা
কুকুরের বাচ্চাটাকে কীভাবে চাপা দিল
গতকাল দৌড়ে পথ পার হওয়া
বাচ্চাটা আজ পথের মাঝখানেই থেমে গেল
অন্য কেউ থমকে দাঁড়ায়নি
তার গায়ের উপর দিয়েই চলে যাচ্ছে গাড়িগুলি
তার ছিন্নভিন্ন দেহটিতে সে নেই
মা অসহায় দুই চোখ নিয়ে এক কোণে বসে
পাশ থেকে তাকিয়ে দেখছে মানুষের গতিবিধি
বিভ্রাট
জঙ্গল ভেঙ্গে গড়ে তুলেছি বিচিত্র শহর
সুরঙ্গ পথ
সুদীর্ঘ সেতু
চোখ ধাঁধানো আলো এবং
প্রগলভা সঙ্গী
নির্জন নিঃসঙ্গ নদীর তীর
বাঙীর মতো ফেটে যাওয়া মাঠ
খসে পড়া কুঁড়েঘর
নিস্তব্ধ গ্রামীণ পথ
দাঁড়িয়ে থাকা অট্টালিকা
উঁচু দেওয়াল
চাপা পড়া অশ্বত্থের শিকড়
আন্তঃজাল জগত
গজদন্ত মিনারে উঠে আনন্দ করছি আমরা
দ্রুতবেগী সময়
বাতাসের বাঘ-আঁচর
মাথার ঘাম টুপ টুপ
ক্যাকটাস পৃথিবীতে
বালিময় শিল্প শরীর।
বৃক্ষরোপণ
গ্রামের ছেলেগুলি শূন্য পথটির পাশে
কৃষ্ণচূড়ার চারাগুলি রোপণ করেছে
বাগানের বাঁশ কেটে ঘেরাও করে দিয়েছে
নিজেদের মধ্যে পয়সা তুলে চা বিস্কুট খেয়ে রং করেছে
ওরা একদিন এখানে
কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুল কুড়োবে বলে ভেবে
আত্মহারা হয়ে উঠেছে
হঠাৎ ওদের ধুলোয় ধূসরিত করে
পি ডব্লিউ ডি বিভাগের পুরোনো লড়ি একটা পার হয়ে গেল
প্রভাহীন হয়ে পড়ল ওদের মুখগুলি।
শৈশবের সঙ্গী
শৈশবে শামুক কুড়িয়েছিলাম
আর খাইয়েছিলাম হাঁসকে
উঠোনে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম চাল
ডেকেছিলাম পায়রাদের
গরুগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে ভরদুপুর বেলা নদীতে নামিয়ে দিয়েছিলাম
জল খেয়ে সাঁতার কেটে উঠেছিল তীরে
শৈশবে বাড়ির চেয়েও অধিক
প্রিয় ছিল মাঠ
বারোমাসেই মাঠে করেছিলাম বিহার
নদীতীরের জঙ্গল
মাঠের মাঝখানের বিলটি
চালতে গাছ
বক জলচর পাখি জলময়ূর
সাপ ব্যাঙ কাঁকড়া কুচিয়া
কুঁহিলা কাশ
কেউ পর ছিল না
আমরা ছেলেরা ঘুড়ি উড়াতাম
আর ঘিলা খেলতাম
কারও কোথাও অসুবিধা ছিল না।
যুদ্ধ
কোথাও গুলি ফুটছে
শেল যেন শব্দটি শান্তিকামী মানুষের
হৃদয় বিদীর্ণ করছে
মধ্যপ্রাচ্য ধুলিতে পুঁতে গেছে
মিসাইল আক্রমণে তচনচ হয়েছে পৃথিবী
যুদ্ধবিমান গুলি বোমা বারুদের বৃষ্টি নামিয়েছে
ইজরাইল পেলেস্টাইন আজারবাইজান আর্মেনিয়া
রাশিয়া ইউক্রেইন ইরান ইরাক সিরিয়া লিবিয়া
আফগান পাকিস্তান কোথায় যুদ্ধ নেই
সর্বত্র জ্বালামুখী সদৃশ পরিবেশ
যুদ্ধ গুলি–
মানুষ মানুষের যুদ্ধ
ক্ষমতা এবং সম্পদ লাভের যুদ্ধ
ধর্মান্ধতা জাত্যাভিমান এবং আধিপত্য রক্ষার যুদ্ধ
এই যুদ্ধে সুন্দর পৃথিবীটির কী দোষ