শব্দ মর্মভেদী…
শব্দ মর্মভেদী
বৃষ্টি
যা প্রবাহিনী ও
আলসে গুঞ্জনকে গর্ভাধান করে
ওরা ওড়ে
ঈগলের থেকে উঁচুতে
এবং ওরা ফেরেশতা
ওরা খসে পড়ে
এবং ওরা নুড়ি
স্মৃতিতে লালাভ বৃত্তের
পদাঙ্ক অনুসরণকারী
বীর্য
দিনের চাদরগুলোর ফাঁকে
মৃত্যুহীনতার অক্ষিবিভ্রম
উপভোগ করে
পবিত্রতম লালা…
অট্টহাস্য, একটা ভারী দীর্ঘশ্বাস, দিগন্তে আঘাত হানে
কিছু একটা অভিমুখে ছুটে যায়, পাতলা হওয়া রামধনু
ছিটিয়ে দেওয়া ধুলো, উলের জড়ানো
সুতো পুরনো বাসার রঙ
কিংবা ইউইয়ের দল যা কারো চোখে পড়তো
রাজধানীর মিনারগুলোর অদূরেই, তড়পানো
একটা দ্বীপে উঁচু পীচ গাছটার ছায়ায়
যেখানে জংলী আপেল গাছগুলো ওদের হাত মুচড়ে দেয়
কিন্তু মানুষের কাছে এমন এক বাগিচার আর চাহিদা ছিল না
মাটিতে নিজেদের মুকুট খুঁজতে খুঁজতে
পাখিরা হিরের মত ঝরে পড়েছিল
সমুদ্রের পোশাকের তলায় গুনগুন করেছিল বাতাস, পাতলা
উপড়ে নেওয়া, সাদাগুচ্ছ; চুল
এক থোকা কম্পমান পালক
একে একে ছিঁড়তে ছিঁড়তে, ও আমায় ভালবাসে, ও ভালবাসে না আমায়
এভাবেই সমস্ত কিছু তাকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় হাড় দীনতায়
চামড়া খসে নির্গত হয়, শ্লেষ্মা বা মেডুসা
বালির উপর কর্দমাক্ত জলের ছায়া
ব্যারক
বিদ্যুৎ ও বাতাসের সঙ্গীত, তারাদের বিশৃঙ্খলা
ভাসমান অপেরাদের টুকিটাকি থেকে বহুদূরে
সমতলের গোলমাল ঘিরেই আমার চলাফেরা
বাকলের আঁশ, আঁকিবুঁকি কাটা কোটি কোটি পাতা
সাপের চেরা জিভ
যেন কালো আঙুরের রস দিয়ে এমন এক ক্ষার সম্পাদন করতে পারি
যা দিয়ে সমস্ত কিছুকে মুছে সাফ করে ফেলা যায়
প্রত্যেকটি পরমাণুতে এক কদাকার উজ্জ্বল দেবদূত উন্মুক্ত করতে পারি
যা মূর্তির সোনায় পেরেক মারা প্রজাপতি হবে না
অথবা হবে না কয়্যার দলের পিছনের ব্যারক চন্দ্রমল্লিকা
প্লাস্টার কাজের মাঝে হারিয়ে যাওয়া
কালো ভেড়ার পালকে পথ দেখান রাখালের চুল
আমার দেবদূত শ্বাশত নন, আমি তাঁর হাত ছুঁয়েছি
এবং কিছুটা চোখের জল ঝরিয়েছি তাঁর পায়ের উপর
রামধনুতে পুনর্জন্ম পাওয়া কালপুরুষ
ফুলেদের বরফ, বৃষ্টিধারার জন্মস্রোত
ভোরের মার্বেল পাথরের পাদদেশে উষ্ণ হওয়া
আলোকিত বনবীথির ছায়া
সমুদ্রের স্তন নীলাভ করা, দুই জলভূমির মাঝে
সাঁতরানো, দুই বাতাসের মাঝে বহমান
নিঃসাড়, দু’টি শব্দের মাঝে ভাসমান, আমার গলা,
আমার ঠোঁট ছুঁয়ে যাওয়া, অপ্রত্যাশিত কিছু করে ফেলা
নেকড়ের মত সন্ধ্যায় ঘনতর
নৈঃশব্দে সে নির্লিপ্ত হয়ে যায়
আমার আর কখনই ওর মুখ ওর পাখি-গ্রীবা জানা হবে না
দুটো খাদের মত ওর চোখ
সমুদ্র খেলাগুলো…
সমুদ্র খেলাগুলো
এই নদীগুলোর ধার ঘেঁষে লেখার সর্পিলতা
সৈকতের ঢাল
ছাড়িয়ে যাবে না
প্রকৃত পাঠ্য সুদূরে নির্ঘোষিত
নিজের শরীরে চেপে ধরা
দুর্ভেদ্য
ঘূর্ণি
শব্দ চলাফেরা করে অগ্রসর-সূত্রে
জীবন-পদচিহ্নের সাথে
ছড়ানো ব্যথা ও
দূরগত অন্তঃসারের মাঝে
অজ্ঞানান্ধ
বাদাম শাঁসের হৃদয়
কখনও হাতটা যখন
শক্ত কিছু ছুঁয়ে ফেলে
বিচরণ নিজের আবরণ সরায়
আর তার উদ্ভাসকতায় ভাষা
ছলনাময়কে একত্রিত করে