মু ক্ত গ দ্য 

সোনালী ঘোষ

sonali2

পৃথিবীর সব মায়া, সব সুখ... দু'হাতে খুঁটে নেই

মায়া। দূরে নদী বয়ে যাচ্ছে মোহানার দিকে, ঝিলমিল ক‍রছে জল, এত নক্সা সে কেন বুনে চলছে? দুটি শিশু আদুর গায়ে জলে নেমেছে, মনে হয় ওরা আগের জন্মের লব কুশ। মুখ থেকে যেন স্বর্গীয় আলো ঠিকরে পড়ছে আর চারদিক ঝলমল। নৌকাটি ঐ দিকেই ভেসে চলেছে, এতদূর থেকেও ভেসে আসছে ভাটিয়ালী সুর। এত মন্ত্রমুগ্ধ সুর কোথা থেকে শিখল?

শীত কাছেই, নদীও খুব শান্ত, পাড়ের কাছে কত প্রতিমার কাঠামো। এগুলো দেখলে মন ভারি হয়ে আসে, সে যে কি বিষন্নতা বলে বোঝানো যায় না। গা থেকে কতগুলো চুমকি, টিপ খুবলে বালিকাদল নিজেদের পুতুল সাজাচ্ছে, ওদের গায়েও অত ভালো পোশাক নেই, ধীমে ধীমে  ধোঁয়া আসছে ঐ পশ্চিম দিক থেকে, এগিয়ে দেখি  ত্রিপল খাটানো ঘরে কালো হাঁড়ি চাপিয়ে রান্না করছে এক পোয়াতি বৌ, বয়স বেশী নয়, পাশে ওর মরদটি স্বয়ং মহেশ্বর হয়ে ‘কুকথায় পঞ্চমুখ’ এসবই বুঝি সুখের অসুখ। মেয়েটির মুখ এখন ঠিক অন্নপূর্ণার মত। এ নিত্য অভাবে যার বরামুদ্রা, শত রুক্ষতায় ও তার মুখে কি পরম প্রশান্তি, কোথায় পায় সে এমন অভয়া মন্ত্র?

 

বাবাকে চারদিনের দিন প্রথম জল দিতে এসে মেয়েটি কেঁদে ছিল খুব, পাশে নাপিতানি বসে বলেছিল ‘ও মেয়ে কাঁদিস নে তোর চোখে জল দেখলে বাপে কিছু মুখে দিতে পারবে?’ তারপর যব, ভুজ্য হাত দিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে গুড়িয়ে দিচ্ছিল কান্না… খোলা আকাশ সেদিন মন দিয়ে শুনছিল সব। বেলা পড়ে এলে ছলছল চোখে বিদায়ের সময় আকাশ কাঁপিয়ে নেমেছিল অঝোর।

 

ছাউনির নীচে কাদের ফেলে যাওয়া পাউরুটির আরাম করে খাচ্ছে রোয়া ওঠা কুকুর। ছেলে দুটো চান সেরে এপথ দিয়েই ফিরছে ভেজা গামছার মধ‍্যে কটা মাছ, একটা ফেলে দেয়  কুকুরটির মুখের কাছে, খানিক শুঁকে মুখ ঘুরিয়ে ঝুপড়ির ওপাশে ছায়া দেখে কুন্ডলী হয়ে শুয়ে পড়ে।মনে হয় চুপ করে বসি আর পৃথিবীর সব মায়া, সব সুখটুকু দু’হাতে খুঁটে নেই…