ফি চা র
সুমন সাধু
প্রেমিকের বিরহ
[ওং কার-ওয়াইয়ের সঙ্গে একটি অন্তহীন যাত্রা]
উইং আর লাই-এর মুখে এসে পড়ল দিনের প্রথম আলো। উইংয়ের আধখোলা চোখ হঠাৎ কেঁপে উঠছে টকটকে লালে। আর লাই-এর মুখে সিগারেটের দৃশ্যমান ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে ট্রেনের মায়াহীন গতিতে। উইং আর লাই-এর আজ অভিমান। ভালোবাসা ভালোবাসা ভালোবাসা — মন্ত্রের মতো উচ্চারণ করে উড়ে যাচ্ছে শরীর। শরীর, যেখানে আছে ক্ষণজন্মা সোহাগ। গায়ে গতরে আদর-কামড়ানো দাগ। হিসেব কষতে গিয়ে দেখা গেল ওদের ব্যক্তি জীবনে এসে পড়েছে নতুন রং। ভিত্তি বা ভবিষ্যৎ নেই। জীবনের মতোই। তবুও তারা চলমান। বহমান। মাথার মধ্যে বনবন করে। এমনই এক বৃষ্টির অলস দুপুরে ঘরবন্দি হন ওংকার ওয়াই। দক্ষিণের ক্যাফেতে মুখোমুখি বসে বলি, “সে সামথিং…।”
ইন দ্য মুড ফর লাভ
‘বিরহে যদি দাঁড়িয়ে ওঠো ভূতের মতো দেখায়’ — এ বিরহ প্রেমিকের। সমান্তরাল ভাবে গড়ে ওঠে পৃথিবী। দেখা যায় রাতের গলিপথে অল্পবয়সী মহিলার চোখে জল। ঠিক যেমন কথা রেকর্ড করতে গিয়ে প্রেমিকের চোখ চিকচিক করে ওঠে। চাপা কান্নাই তো রেকর্ড হল। আমি ডুকরে কেঁদে উঠি। আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে চাউ, সু লি-জেন, উইং, লাই, চ্যাং। ওং (ওং কার-ওয়াই) নিয়ে আসছেন নিত্যনতুন রং। তাল জীবনানন্দীয়। ইন দ্য মুড ফর লাভ-এর নিয়ন আলোর কথা মনে পড়ে। সেই ফ্রেমেও এসেছিল হঠাৎ অবাধ্য বৃষ্টি। আর হ্যাপি টুগেদার-এ মদ্যপ অবস্থায় প্রেমিকের ক্রমশ নিজেকে আহত করা। তাল কাটে। লতা লতা লতার মতো তিনবার ইকো হয় বিদ্রোহের চুমু। এই তিনের মধ্যে থাকে সত্য। ‘হাতের ওপর হাত রাখা সহজ নয়/ সারাজীবন বইতে পারা…’ সহজ নয়। বুঝিয়েছিল ওং কার-ওয়াইয়ের দ্য হ্যান্ড ছবিটি। প্রেমিকার হাত এতিম করে দিয়ে পালিয়েছিল প্রেমিকের হাত থেকে। সে পাঁচ আঙুলেও ভরা বর্ষা।
হৃদয়ের বাঁপাশ দিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে ট্রেন
আর দূরের মালকোষ
সমূহ দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তখন ম্লান
শরীরের ঘুম ভেঙে দেখছি, তুমি
আমার থেকে পালাও, আমি তোমার থেকে
এইভাবে রুগ্ন যুদ্ধ চলে ওস্তাদের শেষ রাতে
কবুতর উড়ে গেলে আমার পায়ে নূপুর খেলে যায়
ট্রেনের গন্তব্য থাকে না আর
হ্যাপি টুগেদার
সবকিছুরই মেয়াদ শেষ হবার তারিখ থাকে। কিন্তু হ্যাপি টুগেদারের টুগেদারনেস? অকস্মাৎ তাহাদের চোখে জল আসে। দেখি ইগুয়াজু ওয়াটারফল। তাতে প্রেমের ফোয়ারা। ওং কার-ওয়াই হ্যাপি টুগেদারে শেষ পর্যন্ত দেখান প্রেমিকদ্বয় একসঙ্গে কখনোই ইগুয়াজু দেখতে যেতে পারে না। অন্তিম দৃশ্যে ফিরেফিরে তাকাই। জলপ্রপাতের দিকে তাকিয়ে থাকা ছেলেটিকে যেন ভূতের মতো দেখায়। প্রেমিকের বিরহ আসলে সেখানেও। আমার অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকে ষাটের দশকের হংকং-এ। গ্রীষ্মের দাবদাহে আমি বাসা পাল্টাই, আর ভিতর ভিতর বদলে যায় যাবতীয় পরগনা বোধ। হংকং-এ বৃষ্টি নামলে দু-ফোঁটা ছাট এসে পড়ে। চোখ বুজলে দেখি মধ্যবয়সী কেউ তুমুল ভিড়ে অপেক্ষা করছে। মুখে আলো এসে পড়ে। ফোকাস হই। দুজনের মাঝে ঢোকে ইন্টারসেকশন। তার ব্লকিং-এ গিয়ে দাঁড়াই। স্লো হই। দেখি চারপাশের নিয়ন। স্লো মোশনে ফেটে যায় দিনান্তের সূর্য। ইন দ্য মুড ফর লাভ-এর ঐতিহাসিক দৃশ্যগুলোয় নিজেকে বসিয়ে কেঁপে উঠি। কী অদ্ভুত সেসব কম্পোজিশন। হাতে থাকা টিফিন ক্যারিয়ার, আর একে অপরকে দেখতে দেখতে ক্রস করে যাচ্ছে সু-লিজেন আর চাউ মো-ওয়ান। গলির নিয়ন আলো-আঁধারির আবহে বেজে ওঠে কুল হারানো স্মৃতি আর একাকিত্ব।
ওং কার-ওয়াই তাঁর উজ্জ্বল এবং যৌন আবেদন ঘেরা ভিজ্যুয়াল, পিচ-পারফেক্ট সাউন্ডট্র্যাক এবং প্রাণবন্ত রোমান্টিকতার সঙ্গে সমসাময়িক চলচ্চিত্রের একজন সংজ্ঞায়িত ‘কবি’ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সিনেমাটোগ্রাফার ক্রিস্টোফার ডয়েল, সম্পাদক ও পোশাক পরিকল্পক উইলিয়াম চ্যাং সুক পিং; অভিনেতা টনি লিউং চিউ ওয়াই এবং ম্যাগি চেউং ম্যান ইউক-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীরা যোগ দিয়েছেন তাঁর কর্মযজ্ঞে। ওং তাঁর শিল্পের প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন। ওঁর চলচ্চিত্রের মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আর সংগীতময় মূর্ছনার শৈলীতে বারবার অনুপ্রাণিত হয়েছেন বিশ্বের অগণিত চলচ্চিত্র নির্মাতারা। ওং পরকীয়া দেখান সাহসের সঙ্গে, কমেডি হয়ে ওঠে রক্তে ভেজা, স্মৃতির মধ্যে উড়ে আসে অপূর্ব দু:খ। চিরাচরিত রীতির বাইরে গা ভাসান। চরিত্রদের গায়ে এঁকে দেন স্বপ্নের রং। গল্পের মোড়ে রচিত হয় অজস্র গল্প। নিয়ে আসেন স্লো মোশন। ঘুরেফিরে আসে ট্রেন। ট্রেনের গন্তব্য থাকে না। জীবনের মতো গতি দেয়, বাঁক নেয় সে যাত্রা।
ইন দ্য মুড ফর লাভ-এ দেখা যায় ধুলোময় জানালা। কেউ তাকিয়ে আছে। অতীতকে কেউ দেখতে পাচ্ছে, কিন্তু তা স্পর্শ করছে না। এবং যা দেখছে সবই অস্পষ্ট, ধূসর। পরিচালক আসলে একটা ইমেজকে দাঁড় করিয়ে দেন। সেই ইমেজের ফাঁদ থেকে সহজে বেরোতে পারে না দর্শক। এই আশ্চর্য ফাঁদপাতা ভুবন ওং কার-ওয়াইকে প্রেমিক করে তুলেছে। ট্রেনের ব্যবহার যেমন চলচ্চিত্রের ন্যারেটিভে গতি দেয়, তেমন হঠাৎ চমকে ওঠা স্লো-মোশন স্তব্ধ করে দেয় চারপাশ।
দ্য হ্যান্ড
শুনশান এক মধ্যরাতে হংকং-এর নিয়ন গলিপথে দুজনে মুখোমুখি। চাউ এবং সু লি-জেন। এ দৃশ্যের মাধুর্য বিশ্বে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেখা যায় প্রেমিকার হাতে ব্যাগ, তার মাথা ঈষৎ নিচু। প্রেমিক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে প্রেমিকার দিকে। তার ছায়া পড়েছে নানান লিফলেট সাঁটা দেওয়ালে। ছায়া এমনভাবে পড়েছে, যেন মনে হচ্ছে তাদের দুজনের প্রেমের মাঝে অদৃশ্য কেউ। সে তাদের কাছে আসতে দিচ্ছে না। সেপিয়া টোনের এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বছর চারেক আগে পৌঁছে গিয়েছিলাম দার্জিলিংয়ের কোনো এক গলিপথে৷ অমনই উঁচু নিচু সে পথ। সে পথ ধরে এগিয়েছে শহুরে নিয়ন আলো। গন্তব্যহীন। যেমন সীমার মাঝে অসীম। অনতিদূরের অন্ধকার থেকে আবছা হেঁটে আসছিল বিরহী প্রেমিক। এক হাতে লাল ছাতা, অন্য হাতে টিফিনবাক্স। গন্তব্যহীন তার যাওয়া। চোখাচোখি হতেই সে আমার হাতে তুলে দিয়েছিল সিগারেটের দৃশ্যমান কাউন্টার। ধোঁয়ার তুফান উড়িয়ে সে আমার দিকে অপলক। এ দৃষ্টির মাঝে সেদিন বর্ষা নেমেছিল। অথচ আমাদের চোখ ভেজেনি। ইশারায় বলেছিল সিগারেটের শেষ টানটা দিতে৷ আমার মাথার মধ্যে কিলবিল করছে ইউমেজিস থিম। সে আবহের মধ্যে সেই অপরিচিতের চলে যাওয়া দেখি। হাতে টিফিনবাক্স। হাতে লাল ছাতা। গন্তব্যহীন সেই হাঁটা।
ওং কার-ওয়াই আমায় চিনিয়েছেন রং। মানুষের আলাদা আলাদা নিজস্ব কিছু রং আছে। রং যেন শিল্পীর চেতনাপ্রসূত বিমূর্ত বিভার ফসল। এখানে চলে সচেতন আর অসচেতনতার ভ্রাম্যমাণ খেলা। ওং কার-ওয়াইয়ের রং আমাকে ভাষাজ্ঞান দেয়। পারিজাত, খুবানি, আসমানি, শতমূলী, ধূসরাভ হলুদ, ফিরোজা, শার্ত্রোজ, পীতাভ, সূর্যকমল, নীললোহিত, মিডনাইট ব্লু, ভায়োলেট — এক ধাক্কায় শতসূর্য ফেটে যায়। এ মহাজীবনের সকল ব্যক্তি বা বস্তুর ভিন্ন রং রয়েছে। অন্ধকারের যে রং, তাকে যদি অন্ধরং বলি? ভোরের সূর্যকে বলতে ইচ্ছা হয় ভৈরবী রঙের৷ কিংবা উত্তর কলকাতার ঘাটকে নিয়ন রঙের। মায়ের রং চিরসবুজ। বন্ধুরা সন্ধের ধূসর। এক জীবনে অনেক জীবন।
— সে সামথিং
— কী বলব?
— এখানে তুমিই আমার একমাত্র বন্ধু। তোমার কথা স্মৃতি হয়ে থাকবে। তাছাড়া আমি ছবি তোলা পছন্দ করি না। তাই রেকর্ডারে কিছু বলো।
— আমি জানি না কী বলব…
— যা খুশি। তোমার হৃদয় থেকে যা আসে, তাই বলো। এমনকি দু:খের কথাও বলতে পারো। আমি পৃথিবীর শেষ অবধি এটা নিয়ে যাব।
— কিন্তু আমি দু:খিত নই।
— তাহলে আনন্দের কথা বলো…
টেপ রেকর্ডিংটা টেবিলে রেখে দিয়ে চলে যায় হ্যাপি টুগেদার-এর সবচেয়ে রহস্যময় যুবকটি। আর অন্যজন (লাই) রেকর্ডার হাতে তুলে নেয়। মুখে চেপে রেখে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। কান্না রেকর্ডেড হল। কান্না স্মৃতিতে বন্দি হল। কান্না হয়ে উঠল আমাদের। লাইয়ের দু:খের সঙ্গী হলাম আমরা। আমি আর দার্জিলিংয়ে হঠাৎ দেখা হওয়া সেই ছেলেটি। আমরা এই কান্নাকে আত্মস্থ করলাম। কান্নার রং হয়ে উঠল মিডনাইট ব্লু। এ দৃশ্য যদি প্রেমিকের বিরহ না হয়, তবে এ দৃশ্য কী!
ঘরে ছাই উড়ছে
অথচ চোখ থেকে কিছুতেই তোমাকে ঝেড়ে ফেলতে পারছি না
পলক থেকে ঝরে পড়ছে পালক
উড়ে উড়ে তোমার গায়ে গিয়ে বসছে
যেকোনো শ্মশান যাত্রা আমার কাছে ভয়ের
অথচ করুণ শীতের রাতে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়াটা
প্রতিদিন মনে পড়ছে কেন?
চোখের পাতা কেন পড়ছে না?
নিশ্বাসের দম নেই কেন?
এতশত ভাবতে ভাবতে তুমি মরে যাও
এতকিছুর পরেও মানুষ মানুষকে মনে রাখে
যেমন তোমাকে আমি
চাংকিং এক্সপ্রেস
…আর শিখি পালিয়ে যাওয়া। পরিবারের থেকে, বন্ধুদের থেকে, নিজের থেকেও। পাফি শর্ট ব্লন্ড হেয়ার সদৃশ চাংকিং এক্সপ্রেসের সেই মেয়েটাও হয়তো পালিয়ে যেতে চেয়েছিল হংকং থেকে ক্যালিফোর্নিয়া। ক্যালিফোর্নিয়া শহর হয়ে ওঠে রোম্যান্টিক আকাঙ্ক্ষার বাসস্থান। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’-কে সমান্তরালে ভেবে দেখি। সেখানে পতিতালয়ে কাজ করা লতি নিন্দিত-নিষিদ্ধ জগৎ থেকে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিল। সে স্কুলে ফিরে পড়াশোনা করতে চায়। বিজ্ঞানীদের অহরহ চাঁদে যাওয়ার খবর তাকে আন্দোলিত করে। লতির মাস্টার শহরে বদলি হয়ে যান। লতিকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। স্পষ্টত, এই আধুনিক সভ্যতা বিচ্ছিন্ন গ্রামে লতিকে নিয়ে মাস্টারের শহর যাত্রা হয়ে ওঠে ক্ষুদ্র সমাজের নতুন গ্রহে অভিযাত্রা। এই যে পালিয়ে যাওয়া, তার রেশ থাকে ওং কার-ওয়াইয়ের শর্ট ব্লন্ড হেয়ার মেয়েটির কাছেও। এ পালানো এতিম করে পালানো নয়। এ পালানো জয়ের, মুক্তির কিংবা বিরহের, বিচ্ছেদের। জীবনানন্দ লিখবেন, “আলো আর অন্ধকারে মুছে যায় সে সব ব্যর্থতা।” আর ওং কার-ওয়াইয়ের ছবিতে বেজে উঠবে স্বপ্নের সেই গান,
“All the leaves are brown
And the sky is gray
I’ve been for a walk
On a winter’s day
I’d be safe and warm
If I was in L.A.
California dreaming
On such a winter’s day…”
এমন আশ্চর্য শীতকালীন মধ্যরাতে প্রথম পরিচয় হয় ওং কার-ওয়াইয়ের ছবির সঙ্গে। সে রাতে কলকাতা শহরে বৃষ্টি হয়েছিল তুমুল। গৃহবন্দিকালীন সে সব রাতে চোখের ঘুম আসত না। টানা দুই সপ্তাহ পরপর নেশার মতো দেখেছিলাম তাঁর ছবি। কিন্তু চোখ আটকে গেল ইন দ্য মুড ফর লাভ, চাংকিং এক্সপ্রেস, দ্য হ্যান্ড আর হ্যাপি টুগেদারে। দেখা হয়ে উঠল অধিক। রিপিট হল। ওং কার-ওয়াইয়ের আশ্চর্য ফাঁদপাতা ভুবনে গিয়ে পড়লাম। প্রচুর কবিতা লিখলাম। সে কবিতায় চলে এল কতশত রং। তৈরি হল রঙের রাস্তা৷ সে রাস্তায় দেখা হয়ে গেল অপরিচিতদের সঙ্গে। বন্ধুত্ব হল। কিছু যৌন নিবেদনও৷ অত:পর বিচ্ছেদ। ভাঙচুরময় কবিতার পথ বদলালো। কেউ ছেড়ে চলে গেল। কেউ থেকে গেল। নির্মিত হল বহুস্তরীয় সম্পর্ক। বুঝি, চুপটি করে কিছু জিনিস আঁঠালো ঘায়ের মতো লেগে থাকে গায়ে। তবুও মানুষকে নতুন ভাবে ভালোবাসতে ইচ্ছা হয়৷ এই প্রবলতার স্বাদ ওং কার-ওয়াইয়ের ছবি দেখেই। এটুকুই অর্জন। সিনেমার সঙ্গে জীবন কিংবা জীবনের সঙ্গে সিনেমার সমান্তরাল হেঁটে যাওয়া এটুকুই। ওং কার-ওয়াইয়ের ছবি আমাদের কী দেবে? দেবে পাড় ভাঙার শব্দ, দেবে প্রেমে পড়বার সাহস, দেবে লালায়িত গভীর চুম্বন, দেবে নাভিনিম্নের ওম। আমরা প্রত্যেকে তখন একটা একটা করে আলাদা আলাদা ছবি বানাব৷ ভাঙচুরময় কবিতাকে আবার ভেঙে নতুন করে সাজাব। আকাশের দিকে তাকিয়ে পাখিদের গান গাইব। আমরা ট্রেনের গতির মতো ছুটব। হয়ে উঠব বিচ্ছেদের সানাই, মিলনের হুলুসি বাঁশি। টনি লিয়াংয়ের মতো হয়ে উঠব বিরহী নায়ক।
“আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চলো, সখা
আমি যে পথ চিনি না…”
ওং কার-ওয়াই
দৃশ্য ঋণ: চাংকিং এক্সপ্রেস (১৯৯৪), হ্যাপি টুগেদার (১৯৯৭), ইন দ্য মুড ফর লাভ (২০০০), দ্য হ্যান্ড (২০০৪)
উদ্ধৃতি ছাড়া কবিতাগুলি লেখকের নিজের
‘California Dreaming’ is a song written by John Phillips and Michelle Phillips and first recorded by Barry McGuire. The best-known version is by the Mamas & the Papas, who sang backup on the original version and released it as a single in 1965.
‘আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চলো, সখা’-র কথা ও সুর ধীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, কণ্ঠ প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়