দু টি ক বি তা
ম ণি দী পা   বি শ্বা স  কী র্ত নি য়া
বিফল হারমনিয়াম
আমি সেই বিফল হারমনিয়াম
প্রেমের অভিনয়ে রোজ হাত বোলাই রিডে
গপ্পো বানাই দুঃখের
বলি সে ছিল ফেরেশতার মতো সুন্দর
স্ত্রীলোকরা চমকে উঠত তাকে দেখে
কুটনো কুটতে বটিতে হাত কেটে যেত
রক্ত আর মেহেন্দির ছবি আঁকত
তারা হাতের পাতায়
সেই সব চিকন আলোর প্রজাপতি
তুলোর আঁশের সাথে উড়ে যেত রক্ত মেঘে
লেডিস হস্টেলের নিচে ইউসুফ দাঁড়ালে আজও
ফুঁপিয়ে ওঠে দস্তান
চুল খুলে দেয় মেয়েরা
লম্বা স্বপ্ন বেয়ে উঠে আসে প্রত্যেক জানলায়
আইবুড়ো সুপারের মুখ থমথম করে যখন
গলা সাধে বিফল হারমনিয়াম
অন্ধকার জ্বাল দিয়ে সুরের ক্বাথ
মেয়েরা ভরে রাখে রাতের বয়ামে
স্বপ্ন দেখে বয়াম খুলে চাঁদের সাবান হাতে
ওই চলে যাচ্ছে ইউসুফ ছবির ভেতর
মিনিয়েচারে হেসে উঠছে মিথ ও জুলেখা…
চিরপথ
হাততালি থামতেই গুঞ্জন শুরু হল
কাঠের সিঁড়ি ধরে নেমে এলেন যখন
কোনাকুনি আলো এসে পড়লো
চশমার ঘোর কেটে গেল তক্ষুণি
ফাঁকা সিটগুলোও ভরে উঠলো ফের
হ্যাপি এণ্ডিং পছন্দ যাদের,আজন্ম বৃষ্টি দ্যাখেনি
বাতিল টিকিটের সাথে রেখে দেয় অমর চিত্রকথা,
গ্রীষ্মকাল,ডায়ানা পামারের সোনাবেলা..
বনফায়ার ভেবে ঘুমিয়ে পড়ে মঞ্চের ধারে
দূরপাল্লার গাড়িও রওনা দেয়
প্লাটফর্ম থেকে নেমেই ছুটতে শুরু করে
মোরামের রাস্তা,নিচু স্টেশনবাড়ি
অপেক্ষায় বাঁধানো এক কৃষ্ণচূড়া
জানতে পারে না ঘুমের বার্থ থেকে একটু দূরেই
থেমে আছে শ্যাওলার ভাঙা ঘাট
কপ্পুর জ্বালানো প্রদীপ ভেসে যাচ্ছে একলা
সরু তেলের বাতি হাতে এ গল্পও তবে রওনা হল
পাথুরে জলের চিরপথ…
পৌঁছবো বলে যেখানে শুরু করেছিলাম আমরা…