Hello Testing

ক বি তা

অরিজিৎ লাহিড়ী

arijit_lahiri

পুনরাবৃত্তি 

গ্লাস— ভাঙা— অথবা আমি ভাঙা বলছি বলে ভাঙা।

বিবেক— কন্ট্রোল-সি—

টিভি খবরের পিক্সেল লাল হয়ে যায়,

কেউ বলে রঙের ভুল,

কেউ বলে রক্ত,

কেউ বলে এ এক মেয়ের গল্প,

যে গল্প আসলে বহুবার লেখা হয়েছে,

এবং প্রতিবারই ‘নতুন’।

 

ব্যোদ্রিয়া— অথবা তাঁর উদ্ধৃতি— বলে

‘বাস্তবতা নেই’—

আমি ভাবি, তাহলে রাতগুলো?

যখন গলিগুলো চুপ করে থাকে,

কিন্তু ভাষা চিৎকার করে।

 

টিভির স্ক্রোলারে আরেকটা নাম,

পাশে একখানা বছর— বা জন্মতারিখ 

— বা হ্যাশট্যাগ।

ঘন্টাখানেকের সম্প্রচার শেষ হলে,

বিজ্ঞাপন শুরু হয়,

শহর চুমুক দেয়— তেতো নয়, সিম্যুলেটেড তেতো।

 

গ্লাস মাটিতে পড়ে ভেঙে গেলে

আবার বৃষ্টি নামে— বা ডাউনলোড হয়,

পলিথিনে ঢাকা শহর জানে,

যতবার পুনঃসম্প্রচার,

ত্বক ততবার আরও মোটা হবে।

 

ছায়ালিপি ক্যাফে

একটা ক্যাফে আজ খুলেছে

স্বপ্নের বস্তিতে,

নাম— ‘শব্দের সিগারেট’।

 

মেন্যুতে আছে—

এক কাপ আত্মজৈবনিক কফি,

দু-চামচ পোস্ট-ট্রুথ চিনির গুড়ো,

এক টুকরো নন-লিনিয়ার টোস্ট।

 

টেবিলের কোণে বসে

এক অক্ষরহীন কবি,

সে লিখছে বাতাসে—

বর্ণহীন একটি বিবৃতি।

 

পাশের টেবিলে গদ্য ও কবিতা

ঝগড়া করছে মৌলিকতা নিয়ে,

ওয়েটার পরিবেশন করছে স্ল্যাম-পদ্য

জ্বলন্ত চায়ের কাপে।

 

দুধের বদলে ঢালা হচ্ছে

এক অলিখিত রাষ্ট্রদূতের দুঃস্বপ্ন—

আত্মজৈবনিক, অস্পষ্ট, অতল।

 

ওই তো, গিয়ে বসেছে

এক মৃত সাহিত্যিক,

তার ঠোঁটে আগুন নেই,

চোখে মুদ্রিত প্রথম সংস্করণের দাগ।

 

সে বলছে—

‘লেখো, কালি ছাড়া।

কথা বলো, ব্যাকরণ ভেঙে।

সাহিত্য এখন ডিজিটাল ভ্যাম্পায়ার—

রক্ত চায় না, ব্যান্ডউইথ খায়।’

 

আকাশে ঝুলছে

এক কবিতার পর্দা,

তার ছায়ায় ফোটে

হ্যাশট্যাগযুক্ত উপন্যাস।

একজন ওয়াইফাই-সংযুক্ত যুবতী

পিডিএফ-এর পাতায় চুমু খায়,

স্পর্শ নেই, শব্দ নেই,

তবু ইতিহাস কেঁপে ওঠে।

 

তিন ঘণ্টা পর

একটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কবিতা পড়ে শোনায় এক পোকাকে,

যার নাম— ‘অডিয়েন্স’।

তার ডানায় ছাপা—

‘সাহিত্য এখন শুধু মানুষ নয়।’

বেলাশেষে,

ক্যাফের দেয়ালে জন্ম নেয়

একটা ন

তুন জীবন,

নামহীন, কালি-বিমুখ,

শুধু একটিই শব্দ: ‘লগ ইন’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *