অ নু বা দ ক বি তা
অনুবাদ: বসুদেব দাস
অসমিয়া কবি ডেনী গাম-এর কবিতা
কবি পরিচিতি: ১৯৮০ সনে অসমের মাজুলিতে জন্মগ্রহণ করেন।অসমের একজন পরিচিত কবি। অসমের প্রথম সারির পত্রপত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হয় এবং আকাশবাণী গুয়াহাটি, যোরহাট এবং ডিব্রুগড়ে অনেকবার তাঁর কবিতা প্রচারিত হয়েছে।প্রকাশিত কাব্য সংকলন দুটি, যথাক্রমে ‘মাজুলী ২০০২’ এবং অ’মোর চাঙর মানুহ’। সম্পাদিত গ্রন্থ ‘অই নিঃতমের গাঁওবোর’। বর্তমানে অসম সরকারের পর্যটক অধিকারী হিসেবে কলকাতার অসম ভবনে কর্মরত।
ইঁদুর এবং আমি
তোই ইঁদুরটির ক্ষুধা পেয়েছে
অতিথি আনা মিষ্টি চুরি করেছে
আমার থেকে কিছুই না পেয়ে
আলো বিকিরণ করা বাল্বের তার ছিঁড়েছে
এখন আমার অন্ধকার এবং ক্ষুধা
তোমার কথা ভেবে ভেবে নিদ্রাহীন
মোমের আলোতে একটা কবিতা লিখেছি
তোমাকে বলতে না পারা কথাগুলি
বালিশকে বললাম ফিসফিস করে
ইঁদুরটা চুপি চুপি তাকিয়েছিল
হঠাৎ ঘুম পেল আমার
ভোরবেলা সূর্যের আলোতে জেগে দেখি
কবিতাটা নেই
ইঁদুরটার সঙ্গে দেখা হওয়ায় বললাম–তুইই চোর
কাল রাতে খুব ক্ষুধা পেয়েছিল
তুমি তো আমার চেয়েও দুঃখী–ইঁদুরটা বলল।
বৃষ্টির জন্য
‘বৃষ্টি তুই কেন এসেছিস
অরণ্যকে কাঁদানোর জন্য’– বুলগেরিয়ান লোকগীত
খন্ড খন্ড মেখগুলি উড়ে আসছে
শো শো করে বাতাস তুফান আসছে
ছাগলগুলি দৌড়ে আসছে
বৃষ্টির জন্য ব্রহ্মপুত্র ফুলে ফেঁপে উঠছে
বৃষ্টির জন্য ধূলায় ধূসরিত পথ পেছল হয়ে পড়ছে
বৃষ্টির জন্য নব-দম্পতি কোথাও যায় না
বৃষ্টির শব্দে হারিয়ে গেছে খসে পড়া পাতার শব্দ
আজ বৃষ্টির কী হল
একজন বিদেশি পর্যটক ভাবছে
বারান্দায় বসে
বৃষ্টি এসেছে বলে কুয়োর ব্যাঙ বুঝতে পারে
পুকুরের ছোটো ছোটো মাছগুলি কাছে সাঁতরে আসে
বড়শি বাওয়া ছেলেটি আমার গোয়াল ঘরের গোবর খুঁড়ছে
বৃষ্টির জন্য আমি একটি রঙিন ছাতা কিনেছি
আর সে টকৌ পাতার একটি জাঁপি
ইস! কী অপরূপ দৃশ্য বৃষ্টির
ভিজিয়ে ফেলছে তার উড়ে বেড়ানো চুল
খসে পড়ছে বুকের ভেতরে বৃষ্টি
বৃষ্টির জন্যই সবুজ হয়
প্রকৃতি পৃথিবী এবং প্রেম।
শুভ-ইচ্ছা
সারা জীবন আমি তোমাকে কিছুই দিতে পারলাম না
তুমি আমাকে সুখী করতে চেয়েছিলে তোমার দুঃখে
আমি সুখী হতে পারলাম না
কত ঋতু পার হয়ে গেল
আমার বাগানের গোলাপ মুর্ছা গেল
(গোলাপের কাঁটা বিঁধে)
তোমার স্বপ্নের স্বপ্ন একটা হতে পারলাম না
স্বপ্নের পরিখায় দেখা হওয়ার কথা ছিল
আমি চাঁদ হতে পারলাম না
তোমার অমাবস্যার অন্ধকার আলোকিত করার জন্য
হতে পারলাম না বসন্তের একটি অরণ্য
শীতে বিধ্বস্ত করা একটা গাছ আমি
আমার থেকে আর কী আশা কর
ঘরহীন মানুষটার একটা ঘর পাতার কথা ছিল
কোথায়? কোথায়?
সবকিছু শেষ শূন্যতা
তুমি সূর্য হয়ে উদ্ভাসিত কর পৃথিবীকে
আমার শুভেচ্ছা
আরও একটি শূন্য থেকে আরম্ভ কর জীবন।
মাজুলীর জন্য
মাজুলী একটি দ্বীপ কবিতার
স্বাগতম! হে আমার দেশের কবিরা
নিমন্ত্রণ না পেলেও আসবে স্বনিমন্ত্রিত হয়ে
যেভাবে কবি নবকান্ত বরুয়া এসেছিলেন
পারলে শরৎ ঋতুতে এসো
রুপালি একটি নদীর বুক দিয়ে আসার সময়
ফেরীর পরিচালকটি বলবে
সারি সারি লাল শিমুল গুলি–রুপালি হল
নদীর তীরের গ্রামগুলি অঘরী হয়ে গেল
ওই বালুচরে কাঁপছে কাশ ঝাউবনগুলি
হে অনুভবী কবিরা
আজকেই লিখতে পার জীবনের বিষাদময় কবিতাটি
আজকেই অনুবাদ করতে পার পাখির গানগুলি
দরজা না থাকা বাড়িগুলি থেকে নেমে আসবে শোকের গাথা
কবির দুচোখের তীরে ঝলমল করে উঠবে শব্দ
তাঁরা তোমাদের জন্যই শিশিরে ভিজবে
পূর্ণিমার চাঁদ বিদ্ধ করবে তাঁদের অতীত আর ভবিষ্যৎ
হে আমার প্রাণ কবিরা
কবিতার দেশে এসেছ দেখে যাও আত্মার ছবিগুলি
আর আমি দাবি করব
তোমাদের কবিতায় আঁকা স্কেচ গুলি আমার ছিল
এক রাতের জন্য হারিয়ে যাব ঐনিতম এবং ছাইমদের বাটিতে।
টীকা-
ঐনিতম- মিচিংদের উৎসব আদিতে গাওয়া গান।
ছাইমদের- এক ধরনের পানীয়
পিতার গোধূলি
এসো প্রিয়তমা শেষবারের মতো আলিঙ্গন করো
আর চুম্বন করো কপালে
কেন চোখের জল ফেলছ শেষ হয়ে যাবে
একটু পরে অন্ধকার হবে
আমরা আমাদের মুখগুলি দেখতে পাব না
আমি বোবা হয়ে গেছি
আমি কালা হয়ে গেছি
দুর্বল হয়ে গেছে আমার শরীর
ওই যে রাতের দূত এসেছে
আমার আত্মা নিয়ে যাবার জন্য
সুখে থাকবে প্রিয়তমা
আমি মাটির বিছানায় শুয়ে থাকব
তুমি আমার বিছানায় আমাকে মনে করে শুয়ে থাকবে
আমার ছেলে মেয়েদের ডাক এবং
এক চামচ এক চামচ করে দিতে দাও আপঙের রস
এটা যে আমার নেশা ছিল প্রিয়তমা।
টীকা-
আপঙ- দেশি মদ