ক বি তা
তাপস রায়
একটা বছর জন্ম নেয়, আবার উপহার দিয়ে আসতে হয়
একটা হলুদ প্রজাপতির গায়ে আকাঙ্খা জুড়ে তাকে উড়িয়ে দিলাম
রোদ্দুর ঝিরি ঝিরি ঝরে পড়তে এর পরে চোখে পড়ে, আমাকে
অশেষ করে আরও একটি বছরের জন্ম হয়, আমি তাকে নাম দেব
তুখড় মে মাস, আমি তাকে এ মনের শূন্যতা শেখাবো রোদ্দুর মহিমায়
ক্রমে বেঁচে উঠি, ক্রমে মরে যাই, এক একটা ঢেউ-এর উপরে উঠে
সূর্যের উন্মাদনা বেশ লাগে
যে আমাকে ফ্রেমের বাইরে এনে ছবির চলন শেখায়, সেই তুলি ও রঙের
পাগলতা আমাকেই যেন গড়ে নেবে, ভেবে আমার দু-কাঁধ চিরে ডানা ওঠে
তখন ফুরিয়ে গিয়েছে পশ্চিম, বেঁকে যাচ্ছে, সোজা হচ্ছে নিপুণতা
আমাদের সমস্ত সূর্যের বিশ্রাম জরুরি হলেও কোথায় যে নেমে পড়তে হবে
ভুলে যায় আর আমার ডানার ঋণ তোমাকেও ক্ষুণ্ন করে রাখে দৃষ্টিদূর
মুঠো মুঠো জোনাকিরা ডাকে কী এক নেশায়
আমাকে নিহত করার হক আমার রয়েছে কিনা যাচাই করেছি ইতিহাসে
পুকুড়পাড়ের নির্জনতা আমাকে খুঁজেছে কিনা বুঝি। দু-একটা নতুন শিস্
প্রতিবারই ঘোষিত বিদায় ব্যর্থ করে দেয়, মারে
আমার পুড়ে যাওয়ার কথা কাউকে জানাতে পারি না
তোমার পৃথিবী থেকে আমার পৃথিবীর দূরত্ব মাপি। ধরো
তোমার রাস্তা ও আমার রাস্তা যেভাবে অন্য হয়েছে
যেভাবে ঘুমনোর পর তোমার ঘুম ভাঙতে থাকে …
আমাকে অবাক হয়ে দেখতে হয় হাই তোলা, জানালায় দাঁড়ানো
তোমার খোলা চুলে হাওয়ার কসরৎ রোজ ডেকে নিয়ে যায়
পুরনো ফেরিঘাটে, সারেঙ-এর ঈর্ষা তাকানো
মনে করে সূর্য নিভিয়ে ফেলি রোজ
পরীক্ষা পাশের পড়াশুনো করে যেতে হলো সমস্ত জীবন
তুমি আর শাড়ি পড়ছ না। শহরের হলুদ ক্যাব যেভাবে নিরুদ্দেশ
নদীর ওপারে থাকা সম্মোহন সেভাবেই বুঝি উবে যায় হাওয়া থেকে
বিক্রেতারা আমাকে ঠকায়, তারা একবার বাঁশি বিক্রি করে একবার সুর
গলদ্ঘর্ম আমি টবে টবে ফুলের কেয়ারি করি, মালি
জোনাকিমণ্ডিত রাত্রির কথা আর কাউকেই বলতে শুনি না, পোড়ে ত্রিফলা আলোক
ফি বছর আমাকে ভিকট্রিস্টান্ডের পাশে ছুঁক ছুঁক করতে দেখে বাংলা ভাষার মায়াবী দাহ্যতা
ভাল কবিতা।
ভালো লাগলো
দারুণ..খুব ভালো লেগেছে