দু টি ক বি তা
প্রতিদিন বাড়ি ফেরার সময় দেখি
অন্ধকার কাঁধে নিয়ে ফিরছে মেয়েটা,
প্রতি বাড়িতে একটু একটু করে পৌঁছে দেওয়ার পর
হাত পেতে বসে থাকে পথের পাশে।
নারকেল পাতার আড়ালে কখনো বা চাঁদ উঁকি দেয়
কখনও বা বাতাস ভারি হয়ে আসে তার বুকে,
তারা গুনতে গুনতে ক্লান্ত হয়ে উড়ে যায়
কোনো এক অজানা জঙ্গলের দিকে।
যেখানে এমন অন্ধকারে তার স্কুলফেরত মেয়েটির
নগ্ন দেহটা আবিষ্কৃত হয়েছিল,
একটু দূরে নীরব দর্শক স্কুলব্যাগের থেকে বেরিয়ে আসছিলো
নিজেকে বাঁচানোর শেষ প্রয়াসটুকু।
স্বামী পরিত্যক্তা উঠোন তাকে ঠাঁই দেয়নি,
সন্তান হারানো চোখের জল তাকে প্রতিবাদীও করেনি
কেবল অন্ধকার নামলে
তার শক্ত হয়ে ওঠা মুঠোয় ঘাস জমে যায়।
আকাশের দিকে তাকিয়ে খুঁজে চলে
তার দিন পেরোনোর অবলম্বন।
ঠিক ৩৭ টা ৫৫ মিনিটে একটা ঘোষণা হবে
আপনাকে বেরিয়ে যেতে বলা হবে পৃথিবী থেকে।
পাস্কালের চৌবাচ্চায় মুখ ডুবিয়ে আর্কিমিডিস বলবেন, “ইউরেকা”
মার্কসের বুকে মাথা রেখে ইলিনা খুঁজবে
ভোর চূড়ান্ত করার পাঁচমিশালি দিনকাল।
আপনি যেখানেই ছিলেন স্থির হয়ে অপেক্ষা করবেন
যতক্ষণ না সমস্ত পাটিগণিত থেকে
বেরিয়ে আসে কোনো খেলুড়ে বাঘ,
যতক্ষণ না লাল হয়ে ওঠে কোনো অন্ধকার।
হাল্কা একটা কাশিতে কাঁপিয়ে তুলুন সরকারকে,
মেঘ ধরতে যাওয়ার আগে পকেটে রাখুন বাজারদর,
গাঢ় সমঝোতা ছেড়ে নিয়ে আসুন ছুরি
কেটে ফেলুন যৌথ অনাচার আর প্রগলভ নেশা।
আর কিছু না হোক একটা জীবন তো হাতে আছে
রাতের ক্যাপিটাল থেকে শুরু হোক প্লবতা মাপার কাজ।