শ্র দ্ধা জ্ঞা প ন
গৌতম মণ্ডল
প্রবাল দাশগুপ্ত : ভাষাচর্চার এক প্রজ্ঞাপুরুষ
প্রয়াত হলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক এবং এসপ্যারান্তো আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী প্রবাল দাশগুপ্ত। প্রবাল জন্মগ্ৰহণ করেন ১৯৫৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, কলকাতার এক অভিজাত পরিবারে। বাবা অরুণকুমার দাশগুপ্ত ছিলেন ইতিহাসের প্রখ্যাত অধ্যাপক, পড়িয়েছেন প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মা মানসী দাশগুপ্ত ছিলেন সমাজমনোবিজ্ঞানী এবং রবীন্দ্রভবনের প্রাক্তন নিয়ামক। বাবা ও মায়ের সান্নিধ্যেই মেধাবী ছাত্র প্রবালের মনে খুব কম বয়স থেকেই সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বের উপর প্রবল অনুরাগ সৃষ্টি হয়। মাত্র ১৮ বছর বয়সে লিংগুইস্টিক সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া জার্নালে ধ্বনিতত্ত্বের (Phonology) ওপর তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রথম নিবন্ধেই, বলা বাহুল্য, তিনি বিদগ্ধ জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন।
প্রবাল প্রথমে কলকাতার সেন্ট লরেন্স হাইস্কুলে এবং পরবর্তীতে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে মূল বিষয় হিসেবে ভাষাবিজ্ঞান এবং সহ-বিষয় হিসেবে পালি ভাষা নিয়ে সাম্মানিক স্নাতক হন। এরপর পুনের ডেকান কলেজ থেকে ভাষাবিজ্ঞানে উচ্চতর পাঠ নেন এবং সেখান থেকে সোজা চলে চলে যান আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। সেখানের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে লুইস লেভিন (Lewis Levine) এবং রে সি. ডোহার্টির (Ray C. Dougherty) তত্ত্বাবধানে গবেষণা শুরু করেন । ১৯৮০ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয় (NYU) থেকে ভাষাতত্ত্বের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল : বাংলা ব্যাকরণ ও বাক্যতত্ত্ব (Bangla Syntax)। ১৯৮০ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত ডক্টরাল ডিসার্টেশন হল— “Questions and Relative and Complement Clauses in a Bangla Grammar”। তবে জনশ্রুতি আছে, নোয়াম চমস্কি ছিলেন তাঁর গবেষণার গাইড। একথা ঠিকই, চমস্কির প্রিয় ছাত্র ছিলেন প্রবাল কিন্তু তিনি ছিলেন তাঁর গবেষণার অনুপ্রেরণা। অ্যাকাডেমিক মেন্টর।
প্রবাল দাশগুপ্তর কাজের পরিধি ছিল বিশাল ও বিচিত্র। তবে প্রধান ক্ষেত্র ছিল ভাষাতত্ত্ব, বিশেষ করে চমস্কীয় ব্যাকরণ, সমাজভাষাবিজ্ঞান (Sociolinguistics), অনুবাদ এবং অবশ্যই এসপ্যারান্তো (Esperanto) আন্দোলন।
ফরাসি দার্শনিক জাক দেরিদার ‘বিনির্মাণবাদ’ (Deconstruction) তত্ত্বকে বাংলা সাহিত্যের আলোচনা ও চিন্তনপদ্ধতিতে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও প্রবাল দাশগুপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তাত্ত্বিক কচকচানি এড়িয়ে তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহজ এবং সাবলীল গদ্যশৈলীতে তিনি দেরিদার দর্শনকে বাংলা পাঠকের কাছে পরিচিত করিয়েছেন।
প্রবাল দাশগুপ্তর আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তিনি ভাষার প্রথাগত ব্যাকরণের জটিলতাকে তত গুরুত্ব না দিয়ে অনেক সময় একেবারে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষার মাধ্যমে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো অনুভব করতে চাইতেন।
আমেরিকা থেকে ফিরে ভারতবর্ষের যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি অধ্যাপনা করেছেন সেগুলোর অন্যতম হল : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ডেকান কলেজ পোস্ট-গ্রাজুয়েট অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পুনে), হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-এর ভাষাতত্ত্ব ইউনিট (Linguistic Research Unit)। ২০০৬–২০১৮ সময়সীমায় তিনি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে আইএসআই-এ অধ্যাপনা করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
প্রবাল দাশগুপ্ত এবং ভাষাবিজ্ঞানী রাজেন্দ্র সিংহের যৌথভাবে করা কিছু কাজও বিশ্বজুড়ে আজ সমাদৃত। তাঁরা দুজনে মিলে ভাষাতত্ত্বে “Substantivist Approach” বা প্রগাঢ় বস্তুবাদী ঘরানার বিকাশ ঘটান।
তবে প্রবাল দাশগুপ্ত একজন নিছক ভাষাবিজ্ঞানী ছিলেন না, ছিলেন একজন চিন্তক। প্রজ্ঞাবান ঋষি। তিনি ভাষাকে শুধুমাত্র ভাববিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে দেখতেন না, মানুষের মুক্তির একটা সেতুরূপে ভাবতে অধিক পছন্দ করতেন।
আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবাল দাশগুপ্তের আরও একটি বড় পরিচয় হল তিনি এসপ্যারান্তো (একটি কৃত্রিম আন্তর্জাতিক ভাষা, যা বিশ্বের সব মানুষের মধ্যে যোগাযোগের উদ্দেশে তৈরি হয়েছিল) আন্দোলনের ছিলেন একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তিনি ‘Universal Esperanto Association’ (UEA)-এর ২০০১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি এই সংস্থার উপ-সভাপতি এবং ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ বাংলা সাহিত্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ কবি এবং লেখকের রচনাকে তিনি এই আন্তর্জাতিক ভাষায় অনুবাদ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে বিশ্বমঞ্চে বাংলা ভাষাতত্ত্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এসপারান্তোকে তিনি একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এবং এব্যাপারে তিনি যে অনেকটাই সফল, একথা বলাই যায়।
এসপ্যারান্তো ভাষাতেও তিনি প্রচুর লেখালিখি করেছেন এবং এই ভাষার প্রচার ও প্রসারে বিশ্বজুড়ে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের অন্যতম তিনি।
ভাষাগত মানবাধিকার এবং বহুভাষিক গণতান্ত্রিক পৃথিবীর স্বপক্ষে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে আমৃত্যু সওয়াল করে গিয়েছেন।
এসপ্যারান্তোর এবং বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাতেও তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন। ইংরেজি ভাষাতেও তাঁর বেশ কয়েকটি মূল্যবান বই রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখ করতেই হবে: ‘Projective Syntax’ , ‘The Otherness of English India’s anti tongue syndrome’ এবং ‘After Epitomelogy’-এর কথা।
আর একটি প্রসঙ্গের অবতারণা না করলে প্রবাল দাশগুপ্তর বৈদগ্ধের পরিধি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী এবং দার্শনিক নোয়াম চমস্কি নিয়েও তিনি গভীর অভিনিবেশের সঙ্গে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। দাশগুপ্ত তাঁর কর্মজীবনের শুরু থেকেই চমস্কির সঞ্জননী ব্যাকরণ (Generative Grammar) তত্ত্বের মূল বিষয়গুলো বাংলা এবং ইংরেজি— উভয় ভাষায় অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রখ্যাত বই ‘হালের পশ্চিমী ব্যাকরণতত্ত্ব’-এ তিনি চমস্কির তত্ত্বের আধুনিক রূপটি খুব সাবলীলভাবে তুলে ধরেন। এ ছাড়াও তাঁর অন্যান্য বইয়ে এবং বিভিন্ন নিবন্ধে চমস্কির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাঁর মননশীল আলোচনা রয়েছে। চমস্কির ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘Noam Chomsky’s Architecture of Language’-এর তিনি ছিলেন অন্যতম সহ-সম্পাদক। তবে প্রবাল দাশগুপ্ত চমস্কিকে কখনই অন্ধ অনুসরণ করেননি, বরং চমস্কির সর্বজনীন ব্যাকরণের (Universal Grammar) ধারণাকে ভারতীয় ভাষা, বিশেষত বাংলা ভাষায় কিছুটা অন্যভাবে প্রকাশ করেছেন।
পরবর্তী জীবনে অবশ্য প্রবাল দাশগুপ্ত চমস্কির ঘোর তাত্ত্বিক ও ফর্মাল রূপকাঠামো থেকে কিছুটা সরে এসে ভাষার বস্তুনিষ্ঠ রূপায়ণ (Substantivism)-এর দিকে মনোযোগ দেন। চমস্কি মনে করতেন যে, ভাষা কেবল মস্তিষ্কের একটি বিমূর্ত গাণিতিক মডিউল কিন্তু প্রবাল দাশগুপ্ত এই মতবাদের পুরোপুরি সমর্থক ছিলেন না, তিনি মনে করতেন মানুষের সামাজিক বসবাস ও যোগাযোগের মাধ্যমের সঙ্গেও ভাষার একটি গভীর সংযোগ রয়েছে।
কমলকুমার মজুমদারের জন্মের শতবর্ষে আদম থেকে একটি স্মারক গ্ৰন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গ্রন্থটি শেষপর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি ঠিকই কিন্তু তিনি আমাদের অনুরোধে একটি চমৎকার নিবন্ধ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি যখন জানতে পারেন বইটা বেরোচ্ছে না, তখনও কোনোদিন তিনি উষ্মা প্রকাশ করেননি।
প্রকৃতপক্ষে তিনি লেখকসমাজ থেকে কিছুটা দূরত্বে অবস্থান করে বাংলা ভাষাতেও নিয়মিত মননশীল প্রবন্ধ লিখতেন। ভাষা, সমাজ, শিক্ষা এবং সাহিত্য নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত মৌলিক এবং যুক্তিনিষ্ঠ । বাংলা বানানের নিয়ম, ভাষার বিবর্তন এবং আধুনিক মননে ভাষার ভূমিকা নিয়ে তাঁর অসংখ্য নিবন্ধ রয়েছে। রয়েছে মূল্যবান বইও। তাঁর প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। ‘কথার ক্রিয়াকর্ম’। বাংলা ভাষায় তাঁর লেখা ষষ্ঠ তথা শেষ বই প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬-এর কলকাতা বইমেলায়। ‘সম্বোধনের সন্ধানে’। মাঝে প্রকাশিত হয়েছে আরও চারটি মূল্যবান বই। ‘ছিন্ন কথায় সাজিয়ে তরণী'(২০১০), ‘ভাষার বিন্দুবিসর্গ’ ( ২০১২), ‘মেরুর প্রার্থনা : বিষুবের উত্তর’ ( ২০১৫) এবং ‘ভাষার আকৃত চেহারা’ ( ২০২৫)।
এসবের পাশাপাশি রয়েছে তাঁর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অনুবাদ। এদের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করব যেটির কথা, সেটি হল: ’নেমেসিস’ (আলফ্রেড নোবেলের লেখা একমাত্র নাটকটির মূল এসপেরান্তো সংস্করণ থেকে সরাসরি বাংলায় অনবদ্য রূপান্তর, ২০১৪)। এছাড়াও উল্লেখ করতে হবে ’সঙসপ্তক কাহিনি’ (ফিনিশ সাহিত্যের ক্লাসিক লেখক আলেক্সিস কিভি-র কালজয়ী উপন্যাস ‘সেভেন ব্রাদার্স’-এর সরাসরি অনুবাদ।) এবং ’হ্লাপিচের কাণ্ড’-এর (ইভানা বালিচ-মাশুর্হানিচের ক্রোয়েশীয় শিশুতোষ উপন্যাসের চমৎকার বাংলা অনুবাদ, ২০০৬)।
একজন জ্ঞানতাপস বলতে যা বোঝায় প্রকৃত অর্থেই প্রবাল দাশগুপ্ত ছিলেন অনেকটা তাই। ভাষাবিদ পবিত্র সরকার প্রবাল দাশগুপ্তকে সমসাময়িক বাংলা ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাত্ত্বিক এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষক হিসেবে গণ্য করেন এবং বাংলা ভাষার গঠনগত গবেষণায় তাঁর অবদানকে বরাবরই উচ্চ মূল্যায়ন করেছেন।
অপরপক্ষে পৃথিবীবিখ্যাত ভাষাচিন্তক এবং দার্শনিক নোয়াম চমস্কি তাঁর অত্যন্ত স্নেহভাজন প্রবাল দাশগুপ্ত সম্পর্কে বিভিন্ন নিবন্ধে যা বলতে চেয়েছেন সেগুলোকে একত্রিত করলে মোটামুটি যা দাঁড়ায় তার সারসংক্ষেপ হল : ‘প্রবাল দাশগুপ্ত এমন একজন তাত্ত্বিক, যিনি কেবল জেনারেটিভ গ্রামারের মূল কাঠামোটিকেই আত্মস্থ করেননি, বরং এটিকে ভারতীয় ভাষা ও দর্শনের একটি অনন্য মেলবন্ধনে রূপ দিতে পেরেছেন। তাঁর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ।’
তবে ভাষা চর্চায় তাঁর যে বিপুল পরিমাণ কাজ রয়েছে সেই অনুপাতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার বা সম্মান পাননি। ব্যতিক্রম যে কিছু নেই, তা অবশ্য নয়। ২০০৪ সালে লিঙ্গুইস্টিক সোসাইটি অব আমেরিকা তাঁকে সম্মানসূচক সদস্যপদ দেয়। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁকে অর্চনা চৌধুরী পুরস্কার জ্ঞাপন করে। আর পশ্চিমবঙ্গ সরকার ? তাঁকে বিদ্যাসাগর-দীনময়ী পুরস্কারে সম্মানিত করে। পুরস্কারপ্রাপ্তির তালিকা এটুকুই।
গত ১ জুন কলকাতার নিজ বাসভবনে রাত্রে ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে ৭২ বছর বয়সে প্রবাল দাশগুপ্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্তমানে রয়েছেন তাঁর বিদূষী স্ত্রী মালত্রী দাশগুপ্ত এবং একমাত্র পুত্র আবীর দাশগুপ্ত।
তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে ভাষাতত্ত্ব, সাহিত্য এবং সারস্বত সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হল ।