ক বি তা
দেব মাইতি
সেফটিপিন
এটি একটি বর্ষাদিন বিদ্যুৎচমক বজ্রপাতের মুহূর্ত
এটি একটি ঢেউ উত্তাল হবার দিন মেঘলা কাদায়
এটি একটি লতাগুল্ম বৃক্ষ পল্লব শিকড় সিক্ত দিন
এটি একটি নোঙর ছেঁড়া নৌকার নিরুদ্দেশে দিন
যখন দিনও রাত্রির মতো হতে পারে বানানো আলো
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শহর গ্রাম নগরে জানলা দরজা
ভ্যানিস হয়ে যায় ঘর বাড়ি রাস্তা ঘাট দোকান বাজার
থাকে শুধু মেঘলা বৃষ্টি ব্রজ বিদ্যুৎ মুহূর্তের পৃথিবী
তখন তোমাকে চুল্লীর আলোয় ফুটন্ত ভাতের মতো
আমি নেশা টেনে বসি আমার গায়ে ঘুঘু বনকলমী
সাপ বাইতে থাকে তাদের ছোবল তোমার দিকে ছোটে
আর তুমি ফ্যান গড়াতেই ভুলে যাও চুল্লীর জ্বালান আর
বিড়ি
এই চৌকো ঘেরাটোপে চতুর্ভূজ ত্রিভূজ বৃত্তের কেন্দ্রে
ফুটকি বা বিন্দু অথবা সংখ্যা শূন্যের দেদার বংশবৃদ্ধি
লিটার অথবা গ্যালন বাষ্পীয় বা কঠিন দৃশ্যত অদৃশ্যত
শ্রুত অশ্রুত মর্গ কিনবা ভাগার শ্মশান বা গোরস্থান
সাদা কালো নীল কিংবা সবুজ উল্টো সোজা বাঁকা
ধ্যাত তেরি ধ্যাততেরি ধ্যাত তেরি ভাই কী ভাই কী
উড়ন ঘূরন মৃত্যু দারুন! কেউ নিজের চিতা সাজায় কী
সবাই নিয়ে চলছে বেশ লাশ বডি শবদেহ বলো হরি
দুঃখ ভীষণ হয় যে কতজনার কত না শোকের ফিরিস্তি
মুখের কাছে মুখ এনে বলল না কেউ হাফটা চ’ দু-জন
টানি— বাঁচতে চেয়ে মরলি ভীষণ খা একটা বিড়ি
লকেট
বাচ্চার লেবু লজেন্সের মতো চুষতে চুষতে
পাতলা একটা
সূর্য ডুবে গেল
যেন একটা লকেট চলে গেল আড়ালে
গভীর উষ্ণ স্থানে
যেমন পাখির ওমে পাখির ডিম থাকে
ভালোবাসাও তাই ফুটে ওঠে
মানুষ কথা বলতে শেখে
যে কথা রাত অবধি জাগিয়ে রাখে
আমি দেখি প্রতিদিন আকাশে লকেট