ক বি তা
স্বাগতা বসু
হৃদয় তৃষ্ণা
খুঁজেছ ওই দিঘি, অরণ্যে
পথে ঘাটে মাঝ সমুদ্রে…
তারে রেখেছ কোথায়?
পাও তার সুর?
তার ধ্বনি বাজে বুঝি তোমার বুকে?
জেনো এ ডমরুনিনাদ নয়
একতারা, রসকলি
মেঠো বাউলের সাথে
হবে তো দেখা
ঠিক যেভাবে সাপ খেলা দেখিয়ে বাড়ি ফিরেছিল বেদেনি একা
কাঁকর বিছানো পথে
হেঁটেছে যেখানে প্রভু
কীভাবে বলো প্রেমহারা হব কভু?
বটের ঝুরির নীচে ঘুমিয়েছে যে পথিক
তারও শমন আছে?
দ্যাখো, আজও ভালোবেসে বিষ ধারণ করেও নীলকণ্ঠ বাঁচে।
কালযাত্রী
ঝাপসা সময়ে বেড়ে ওঠা এক নর-নারী
স্বপ্নের লোনা জলে ধুয়ে গেছে তাদের শরীর
টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে তাদের আস্তিন বেয়ে
ভীত হরিণীর মতো কালো শিরা এদিক ওদিক থেকে উঁকি দিচ্ছে
হাত ঘড়ির কাঁটা বলছে আঁচল তখনও কুয়াশা মাখা
সবুজ ঘাসের আগায় মুক্তোর মতো লালা জেগে উঠেছে
দু-চোখে আদি অনন্তের ক্লান্তি
অট্টহাস্যে ফুটে উঠছে চাঁদের গহ্বর—
অপলক দৃষ্টি
ঝাপসা সময়ে এক নরনারী
কোলের শিশুকে ঘুম পাড়াচ্ছে।