রূ প ক থা
পৃথা গাঙ্গুলী
ওয়েস্টার্ন বা ট্র্যাডিশনাল দু-ধরনের ড্রেসের সঙ্গেই দেশজ উপাদানে হাতে তৈরি গয়নার বাজার ক্রমশ বাড়ছে
বাঙালিদের সাজগোজের ইতিহাসে গয়না বরাবরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগেকার দিনের সোনা বা রুপোর চাকচিক্য ছাপিয়ে এখন একটা বড়ো জায়গা দখল করেছে দেশজ উপাদানে হাতে তৈরি গয়না। যেমন— মাটির গয়না, কাপড়ের গয়না, কাঠের কারুকাজ করা গয়না, ঘাসের বিনুনি বা বীজের তৈরি গয়না। প্রাকৃতিক বুননে তৈরি এই শিল্প কেবল অলঙ্কার নয় আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। শিল্পীদের সৃজনশীলতার অমূল্য স্মারকও বটে।
আমরা হাজির হয়েছিলাম এমনই এক দেশজ গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘বৃন্দাশ্যাম’-এর কাছে। আজকে রইল তাঁদের কিছু Exclusive Collection—
‘বৃন্দাশ্যাম’-এর কর্ণধার বৈশাখী মিত্র জানালেন, ‘হাতে তৈরি দেশজ গয়নার জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। এসব কারখানায় ছাঁচে তৈরি হয় না প্রতিটি গয়না শিল্পীদের আঙুলের স্পর্শে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে ফলে একই নকশার দুটি গয়না কখনো পুরোপুরি এক হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে উপাদান ব্যবহার করে গয়নাগুলো তৈরি করা হয় সেগুলো সাধারণত প্রাকৃতিক ও পচনশীল। কাঠ কার্ডবোর্ড কাপড় পাট সুতো বীজ কড়ি সবই পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করা হয় আবার পঞ্চভুতে বিলীনও হয়ে যায়। পরিবেশের ক্ষতি করে না তাই সচেতন ক্রেতাদের কাছে এইধরনের গয়না বেশ আকর্ষণীয়।’
বাঙালির চিরন্তন অলঙ্কার ভাবনায় দেশজ উপাদানের ব্যবহার কেবল তো একটি সাধারণ সাজের অনুষঙ্গ নয় বরং মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক অমোঘ কালজয়ী শিল্পশৈলী। পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে কারিগরের নিপুণ আঙুলের স্পর্শ, দীর্ঘ সময়ের শ্রম আর প্রকৃতির প্রতি এক অদ্ভুত আত্মিক নিবেদন যা আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার যুগে বিরল। অসংখ্য প্রান্তিক কারিগর যারা কোনোদিন শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ নেননি, তাদের সহজাত প্রতিভা যখন একটি তুচ্ছ কাঠের টুকরো বা এক মুঠো কাদামাটিকে অলঙ্কারে রূপ দেয়, তখন তা বিশ্বদরবারে আমাদের কারুশিল্পের সক্ষমতাকেই তুলে ধরে। দেশজ গয়নার সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর সার্বজনীনতা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার নাগালে থাকে অথচ এর নান্দনিক আবেদন হার মানে যে কোনো দামি অলঙ্কারের কাছে।
বৃন্দাশ্যাম (Brindashyam)-এর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক
অনেক ধন্যবাদ। খুব সুন্দর লেখা
অসাধারণ। বৈশাখীকে অনেক শুভেচ্ছা। ভারি সুন্দর ওর হাতের আঁকা, কাপড় মাটি বীজের গয়না।